ই কমার্স ব্যবসা কি এবং এর সুবিধা

ইলেকট্রনিক কমার্স বা ই কমার্স ব্যবসা কি

ইলেকট্রনিক কমার্স বা ই কমার্স হলো এমন একটি ব্যবসায়িক মডেল যেটি কোন সংস্থা বা ব্যক্তিকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে জিনিসপত্র ক্রয় বিক্রয় করার সুযোগ করে দেয়। ই-কমার্স নিম্নলিখিত ৪টি বড় মার্কেট সেগমেন্টে কাজ করেঃ

  1. Business to Business
  2. Business to Consumer
  3. Consumer to Consumer
  4. Consumer to Business

ই কমার্স ব্যবসা নামটা কি একবারও শুনেছেন। যারা সাধারণত ব্যবসায়ী তারা এই নামটির সাথে পরিচিত। আর যারা সাধারণত এই ব্যবসা সম্পর্কে কিছু জানেন না তাদের জন্যই আজকে আমাদের এই আর্টিকেলটি।

আজকে আমি আমার এই পোস্টে আপনাদেরকে বলবো ই কমার্স ব্যবসা কি এবং ই-কমার্স ব্যবসার সুবিধা সম্পর্কে। আপনারা অনেকেই হয়তো জানেন না যে ই কমার্স ব্যবসা কাকে বলে? আমরা যখন অনলাইনের মাধ্যমে কোন প্রোডাক্ট কেনা বেচা করে থাকি তখন সেটা ই-কমার্স ব্যবসার মধ্যে পড়ে যায়। 

বর্তমানে ই-কমার্স ব্যবসা হচ্ছে সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যবসা মাধ্যম। ই-কমার্স ব্যবসার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি এড়িয়ে আমরা খুব সহজেই নির্বিঘ্নে লেনদেন করতে পারছি এবং আমাদের ব্যবসার যাবতীয় কার্যকলাপ শেষ করতে পারছি। 

আপনারা হয়তো আমাজন, ফ্লিপকার্ট এবং আলিবাবার মত  ওয়েবসাইট গুলো কে চিনেন। এগুলোর মাধ্যমে অনলাইনে কেনাবেচা হয়ে থাকে আর সাধারনত এগুলোই হচ্ছে ইকমার্স ওয়েবসাইট।

বর্তমানে ই-কমার্স ওয়েবসাইট গুলো আমাদের জীবনযাত্রা অনেক সহজতর করে তুলেছে। এসব ওয়েবসাইট গুলোর মাধ্যমে আপনি ঘরে বসেই বিভিন্ন ধরনের জিনিস খুব সহজেই কেনাকাটা করতে পারবেন। তাহলে চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক ই কমার্স ব্যবসা কি?

ই কমার্স ব্যবসা কি ?

সাধারণত ইন্টারনেট ব্যবহার করে যে কোন ধরনের পণ্য কেনাবেচা এই ধরনের সিস্টেমকেই বলা হয়ে থাকে ই-কমার্স ব্যবসা। 

ইন্টারনেটের মাধ্যমে পণ্য কেনা বেচার ক্ষেত্রে বায়ার এবং সেলারের মধ্যে ডাটা শেয়ার এবং অনলাইনের মাধ্যমে পেমেন্ট করার অপশন রয়েছে এবং সেখানেই আদান প্রদান করা হয়ে থাকে। 

কিন্তু বর্তমানে অনেক অনলাইন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান তাদের কাছ থেকে পণ্য কেনার পরিবর্তে তাদেরকে ক্যাশ অন ডেলিভারি বা অফলাইনে পেমেন্ট করার সিস্টেম চালু করে দিয়েছে। 

সাধারণত ই-কমার্স বলতে বোঝায় physical product গুলোকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিক্রি করাকে। তাছাড়া অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন কমার্শিয়াল লেনদেনকে ও বলা হয়ে থাকে ই-কমার্স ব্যবসা। 

সহজ কথা যদি বলা যায় অনলাইনের মাধ্যমে সাধারণত যে ব্যবসায় করা হোক না কেন তার প্রতিটি দিক কেই বলা হয়ে থাকে ই-কমার্স ব্যবসা। আবার আরেকটি কথা, যে সকল ব্যবসাকে অনলাইনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রন করা হয়ে থাকে সেগুলোও কিন্তু ই-কমার্স ব্যবসা। 

আর যে ওয়েবসাইট গুলোর মাধ্যমে এই ব্যবসা সংগঠিত হয়ে থাকে সেই ওয়েবসাইটগুলোকে বলা হয়ে থাকে ই-কমার্স সাইট। এই ওয়েবসাইট গুলোর মাধ্যমে সাধারণত পণ্য কেনা-বেচা হয়ে থাকে। আশা করি আপনারা সকলে বুঝতে পেরেছেন ই কমার্স কি এবং এ কমার্স ব্যবসা কাকে বলে। 

ই-কমার্স ব্যবসার সুবিধা 

ই কমার্স ব্যবসার অনেক ধরনের সুবিধা রয়েছে। আমি আপনাদেরকে ই-কমার্স ব্যবসার  কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা সম্পর্কে বলবোঃ

  • আপনি আপনার ই-কমার্স সাইটের মাধ্যমে বা ই-কমার্স ব্যবসার মাধ্যমে নিজের এলাকা সহ, নিজের দেশ, বা সারা বিশ্ব জুড়ে আপনি আপনার পণ্যগুলো বেচতে পারবেন বা অন্য যেকোনো পণ্য কিনতে পারবেন। 
  • সাধারণত এই ব্যবসার মাধ্যমে আপনি বাজারে বা মার্কেটে না গিয়ে ঘরে বসেই খুব সহজেই পণ্য কিনতে পারবেন। 
  • বিভিন্ন ধরনের বা আলাদা আলাদা প্রোডাক্ট আপনি খুব সহজেই একজায়গায় থেকে দেখে নিতে পারবেন।
  • তাছাড়া এখানে রয়েছে প্রডাক্ট রিভিউ এর সুবিধার মাধ্যমে আপনি প্রোডাক্ট এর গুণগত মান এবং এর সুবিধা অসুবিধা সম্পর্কে জেনে নিতে পারবেন।
  • আপনি এই ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময় ডিসকাউন্ট বা লাভজনক অফার পাবেন যার ফলে অনেক ভালো ভালো পণ্য আপনি কম দামে কিনতে পারবেন।
  • অনেক ভালো ভালো ই-কমার্স ওয়েবসাইট রয়েছে যেখানে আপনি পণ্য কেনার পর যদি আপনার পণ্য পছন্দ না হয় বা আপনার মনের মত না হয় তাহলে আপনি সেখানে ওই পণ্য ফেরত দিয়ে আপনার টাকা ব্যাক নিতে পারবেন।
  • অফলাইন বা ফিজিক্যাল বিজনেসের চেয়ে ই-কমার্স ব্যবসা অনেক সহজ এবং লাভজনক। 
  • আপনি কাস্টমার হিসেবে অনেক latest products প্রডাক্টগুলো ই-কমার্স ওয়েবসাইটগুলোতে খুব সহজেই পেয়ে যাবেন।

আপনাদের হয়তো আর বুঝতে বাকি নেই যে ই-কমার্স ব্যবসার সুবিধা এবং ই-কমার্স ব্যবসার মাধ্যমে আমাদের কেনাকাটা কতটা সহজ হয়ে উঠেছে। তাছাড়া আপনি পণ্যের কোয়ালিটি অনেক ভাল এবং দেখেশুনে নিতে পারবেন ই-কমার্স ওয়েবসাইট গুলোর মাধ্যমে। 

ই-কমার্স ব্যবসার উৎপত্তি এর ইতিহাস 

সাধারণত আগে কম্পিউটার ছাড়া ই-কমার্স ব্যবসা পরিচালনা সম্ভব হতো না। আর তখনকার সময়ে মানুষের ঘরে কম্পিউটার ছিল না তেমন। তাই সাধারণত সেই সময় ই কমার্সের চিন্তা তেমন কারো মাথায় আসেনি।

তারপর আস্তে আস্তে ১৯৯৪ সালের ১১ আগস্ট বিশ্বের প্রথম ই-কমার্স এর মাধ্যমে সেল হয়। সাধারণত ওই সময়ে একজন ব্যক্তি তার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে একটি সিডি প্লেয়ার বিক্রি করেন। আর সেই সময়ে Netmark ছিল একটি অনলাইন মিউজিক স্টোর। 

তারপর এর কিছুদিন পর Jeff Bezos এর দ্বারা ১৯৯৪ সালের ৫ জুলাই বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ই-কমার্স ওয়েবসাইট আমাজনের সৃষ্টি হয় তখন। আর সাধারনত ওই সময় ছিল এই কমার্স ব্যবসার সবথেকে ভালো একটি সময় কেননা গ্রাহকগণ তখন নতুন একটি আনন্দ উপভোগ করতে পেরেছিল ইন্টারনেটের মাধ্যমে কেনাকাটা করে।

তারপরে আস্তে আস্তে যখন মানুষ অধিক পরিমাণে কম্পিউটার ব্যবহার করা শুরু করল তখন থেকে এই ই-কমার্স ব্যবসা লাভজনক হতে লাগলো।তবে সেই সময়ে প্রোডাক্ট বিক্রি করার পর চেকের মাধ্যমে পেমেন্ট নেওয়া হতো।

আর সাধারনত তার কিছুদিন পর হাজার ১৯৯৮ সালে অনলাইন পেমেন্ট এর জন্য চালু হয় পেপাল। আর এখন বর্তমানে ই কমার্স ওয়েবসাইট গুলোর মাধ্যমে আপনি যদি পণ্য কেনেন বা বিক্রি করেন তাহলে খুব সহজেই আপনি অসাধারণ কিছু পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার  করতে পারবেন। 

বর্তমানে বিশ্বের সব দেশেই ই-কমার্স ওয়েবসাইট গুলো থেকে পণ্য কিনে পেমেন্ট করার জন্য কিছু কিছু পেমেন্ট গেটওয়ে চালু রয়েছে। যার ফলে আপনারা কোন ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই অনলাইন থেকে আপনাদের পছন্দমত যেকোনো ধরনের পণ্য কিনতে পারবেন। 

ই-কমার্স ব্যবসার গুরুত্ব 

বর্তমানে সময়ের সাথে সাথে ই-কমার্স ব্যবসার গুরুত্ব বেড়ে চলেছে। এখন মানুষের কেনাকাটা অনেক সহজতর হয়ে গিয়েছে এই কমার্স ব্যবসার মাধ্যমে। ঘরে বসেই এক দেশ থেকে অন্য দেশের ক্লায়েন্টদের সাথে ডিল করতে পারছে ফ্রিল্যান্সাররা। 

ই-কমার্স ব্যবসার মাধ্যমে পণ্য অর্ডার করলে ডেলিভারি চলে আসছে নিজের বাড়িতে। কিছু কিছু ই কমার্স ওয়েবসাইট গুলোতে রয়েছে আকর্ষণীয় সব ডিসকাউন্ট এর সুবিধা। ই-কমার্স ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনার সময় বাড়ছে এবং কেনাকাটা আরো সহজতর হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে আপনার ভোগান্তি অনেক কমে যাচ্ছে। ই-কমার্স ব্যবসার মাধ্যমে ব্যবসা ক্ষেত্রে টাকা লেনদেনের ঝুঁকি অনেক কমে গিয়েছে।আপনারা এর মাধ্যমে লেনদেনে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পাবেন।  

ই-কমার্স ব্যবসার মাধ্যমে আমরা খুব সহজেই আমাদের কাঙ্ক্ষিত হাজার হাজার লাখ লাখ মানুষের মাঝে তুলে ধরতে পারছি। যা সাধারণত ফিজিক্যাল কোন ব্যবসার মাধ্যমে বা অফলাইন কোন ব্যবসার মাধ্যমে করা সম্ভব না একেবারেই।তাই বলাই বাহুল্য যে ই-কমার্স ব্যবসা বর্তমানে ব্যবসা মানুষের জীবনযাত্রাকে আরো অনেক সহজতর করে তুলেছে। 

পরিশেষে, যারা আমাদের সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়েছেন তারা অবশ্যই বুঝতে পেরেছেন ই কমার্স ব্যবসা কি এবং ই-কমার্স ব্যবসার সুবিধা সম্পর্কে। বর্তমানে ই-কমার্স ব্যবসার চাহিদা মানুষের কাছে অনেক বেড়ে গিয়েছে এবং মানুষ এখান থেকে ভাল মানের এবং ভালো পণ্য পাচ্ছে বলে এর প্রতি আকৃষ্ট অনেক বেশি হচ্ছে। যার ফলে ই-কমার্স ব্যবসার গুরুত্ব দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাই পরিশেষে বলাই বাহুল্য যে, ই-কমার্স ব্যবসা আমাদের ব্যবসা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। 

আপনাদের যদি এই কমার্স ব্যবসা সম্পর্কে আর কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই আমাদেরকে কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *