চুলের যত্নে তিসির ব্যবহার

চুলের যত্নে তিসির ব্যবহার সম্পর্কে জানতে পারবেন এই পোস্টে। তিসি বীজ,অনেকের কাছেই নাম টা খুব অপরিচিত, আবার অনেকের প্রতিদিনকার ব্যবহার্য একটি বীজ। এর ইংরেজি নাম ফ্ল্যাক সিড। অত্যন্ত সুলভমূল্যের এই বীজটির গুনাগুন বলে শেষ করা যাবেনা। এটি আপনি যেকোনো খাবারের কাচামালের দোকানে বা মুদির দোকানে পেয়ে যেতে পারেন।

তিসির উপকারিতা সম্পর্কে আমার একটি পরিপূর্ণ পোস্ট আছে, দেখে নিতে পারেন। তিসির বীজ আমাদের শরীরের নানা কাজে লাগে। শুধু শরীরের ভিতরকার না, শরীরের উপরিভাগেও রয়েছে এর অতুলনীয় উপকারিতা। সাধারণত আমাদের চুল এবং ত্বকের যত্নে এর ভূমিকা রয়েছে অপরিসীম। আর আজকে আমরা চুলের যত্নে তিসির ব্যবহার কিভাবে করবো সে সম্পর্কে জানবো।

চুলের যত্নে তিসির ব্যবহার

তিসি বীজে রয়েছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম ,

ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, অ্যামিনো অ্যাসিড, আর্জিনাইন এবং গ্লুটামাইন। এছাড়াও এটি ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-৬,ভিটামিন ডি দ্বারা সমৃদ্ধ। 

তিসিবীজ থেকে তৈরি জেল বানানোর প্রক্রিয়া

একটি পরিষ্কার পাত্রে ২ কাপ পরিমাণ পানি নিয়ে তাতে হাফ কাপ পরিমাণ তিসির বীজ এড করুন। আপনার চুলের ঘনত্ব এবং লম্বা অনুযায়ী পানি এবং তিসি বীজের পরিমাণ বাড়িয়ে বা কমিয়ে নিতে হবে। মিশ্রণটি মিডিয়াম আচে চার থেকে পাঁচ মিনিট পর্যন্ত জ্বাল করুন। এবং মাঝে মাঝে একটু করে নাড়তে থাকুন যেনো তিসি বীজ পাত্রের গায়ে লেগে না যায়। ৪-৫ মিনিট পর তিসি থেকে আঠালো পদার্থ পানির সাথে মিক্স হতে শুরু করবে।ভালোভাবে বলক উঠে গেলে চুলা বন্ধ করে মিশ্রণ টি ঠান্ডা হবার জন্য রেখে দিন।

ঠান্ডা হবার পর একটি পরিষ্কার কটন কাপড় দিয়ে মিশ্রণটি ছেঁকে নিতে হবে।

ছেঁকে নেয়া মিশ্রণটি চাইলে আপনি এভাবেই ব্যবহার করতে পারেন এছাড়া অনেকে এই মিশ্রণটির সাথে অ্যালোভেরা জেল মিক্স করে ব্যবহার করে এতে করে চুলে কোন ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন থাকলে তা দূর হয়।

ব্যবহারবিধি

এই মিশ্রণটি পরিষ্কার চুলে লাগানো উচিত। অপরিষ্কার বা তেল যুক্ত চুলে স্কাল্পের উপর আস্তরণ থাকায় প্যাকটি বিশেষ কোনো উপকার করতে পারেনা।

ব্যবহারের পূর্বে চুল কে দুইভাগে বিভক্ত করে ছেঁকে নেয়া মিশ্রণটি হাতের সাহায্যে সেকশন বাই সেকশন করে স্কাল্পসহ পুরো চুলে লাগিয়ে নিন। ১-২ ঘন্টা অপেক্ষা করুন। এরপর সাধারণ পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। শ্যাম্পু বা কন্ডিশনার ব্যবহার করবার প্রয়োজন নেই। তাও যদি কেউ ব্যবহার করতে চান সেক্ষেত্রে ওইদিন ই করতে পারেন। অথবা একদিন পর করলে আরো বেশি উপকার পাবেন।

তিসিবীজ এর হেয়ার মাস্ক

উপকরণ 

আমরা জানি ফ্ল্যাক সিড এ রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ই, যা আমাদের চুলের পিএইচ ব্যালেন্সকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং চুলের বৃদ্ধি করে, চুল স্মুথ এবং সাইনি করতে সহায়তা করে।

  • ফ্ল্যাক্স সিড পাউডার 
  • আদার রস
  • ক্যাস্টর অয়েল

আদায় রয়েছে anti-inflammatory এবং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল প্রপার্টিস যা আমাদের চুলের খুশকি দূর করতে এবং চুল পড়া রোধ করতে সাহায্য করে এবং চুলের ফলিকল কে আরও বেশি শক্ত করে তোলে। এবং ক্যাস্টর অয়েল ও চুল লম্বা করতে এবং চুলের গোড়া মজবুত করতে সহায়তা করে।

আরো পড়ুনঃ

বানানোর প্রক্রিয়া

প্রথমেই নিয়ে নিতে হবে ২ চামচ পরিমাণ তিসি বীজের পাউডার। এর সাথে যোগ করতে হবে দুই চামচ পরিমাণ আদার রস। এর সাথে এড করে নিতে হবে পরিমাণ মতো ক্যাস্টর অয়েল। চুলের লম্বা এবং আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যাস্টর অয়েল ৪-৫ চামচ পরিমান নিতে পারেন।

এই হেয়ার মাস্ক এর ফলাফল প্রথম ব্যবহার থেকেই দেখা যাবে। এই মাস্ক টি এক ঘন্টা রেখে তারপর শ্যাম্পু করে নিতে পারেন। এর ভালো ফলাফল এর জন্য সপ্তাহে দুইবার এই মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। এবং এটি বানানো ও অনেক সহজ। 

উপকারিতা 

  1. তিসিবীজ চুল পড়া নিয়ন্ত্রণ করে, চুল ঘন করতে সাহায্য করে। 
  2. স্কাল্পে কোনো ক্ষত থাকলে তা দূর করে।
  3. চুলের খুশকি দূর করতে সহায়তা করে।
  4. চুল সাইনি, মজবুত এবং লম্বা করতে সাহায্য করে।

নিয়মিত উপকার পেতে এই হেয়ার জ্যাল প্রতি মাসে ৩-৪ বার ব্যবহার করা উচিত।এবং হেয়ার মাস্কটি সপ্তাহে দুইবার ব্যবহার করা উচিত।

আরো পড়ুনঃ

Conclusion

চুলের যত্নে তিসির ব্যবহার সম্পর্কে এতক্ষণ যা জানলেন আশা করছি এগুলো আপনার জন্য অনেক উপকারী হবে। প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর মধ্যে তিসি রুপচর্চায় অনেক বেশি কার্যকরী। আমার লেখা সবগুলো ব্লগ পড়ুন। আপনার আরো কিছু জানার থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করুন। যদি আমার লেখাগুলো আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়, তাহলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *