স্বাস্থ্য

টমেটো খাওয়ার উপকারিতা

সাধারণত টমেটো সবজি হিসেবে বিবেচিত কিন্তু আসলে এটা ফল। টমেটোকে ফল বা সবজি বলা হয়, এটি পুষ্টিতে ভরপুর। টমেটো শুধু পুষ্টিকরই নয়, খাবারের স্বাদ বাড়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যকরও। প্রতিদিনের খাবারে টমেটো অন্তর্ভুক্ত করলে আমাদের শরীর অনেক রোগের বিরুদ্ধে লড়তে পারে।

টমেটোর বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে, এর উপকারিতা অসংখ্য, তাই আয়ুর্বেদে ওষুধ হিসেবে টমেটো ব্যবহার করা হয়। আসুন টমেটোর বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে জেনে নেওয়া যাক যে এটি বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কিভাবে কার্যকরি।

সাধারনত টমেটো সবজি বলে ধরে নেয় মানুষ শুধু খাবারের স্বাদ পেতে ব্যবহার করে কিন্তু টমেটোর কিছু ঔষধি উপকারিতাও রয়েছে। আসুন তাদের সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানি।

লাল টমেটো লম্বা, খাড়া, বিশেষ গন্ধযুক্ত, কাঁটাবিহীন, ভেষজ উদ্ভিদ। এর পাতাগুলি প্রান্তে অসমভাবে কাটা, সামনের দিকে নির্দেশিত এবং সবুজ রঙের। এর ফুল প্রায় 1.6 সেন্টিমিটার ব্যাস বা ব্যাস হলুদ বর্ণের। এর ফল কাঁচা অবস্থায় সবুজ, পাকা অবস্থায় লাল, মাংসল, ব্যাস 1.3-6 সেমি, গোলাকার, চকচকে। বীজ চ্যাপ্টা, গোলাকার এবং কিডনি আকৃতির। সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ মাসে এটি বেশি ফুলে ওঠে।

খাবারকে সুস্বাদু করার পাশাপাশি লাল টমেটো শক্তিও জোগায়। টমেটোর ফল অম্লীয় প্রকৃতির, মিষ্টি, খাবার দ্রুত হজম করতে সাহায্য করে, শক্তি বাড়ায়, জীবাণুনাশক, রক্ত ​​পরিশোধন করে এবং উদ্দীপক।

টমেটোর উপকারিতা

ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, ভিটামিন এ, পটাসিয়াম, নিয়াসিন, ভিটামিন বি৬, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, কপার ইত্যাদি লাল টমেটোতে পাওয়া যায়, যা অনেক রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।

টমেটো গলা ফোলা কমায়ঃ ঠাণ্ডার কারণে গলা ব্যথা হলে লাল টমেটো ফলের ক্বাথ তৈরি করে ১০-৩০ মিলি পরিমাণে পান করলে মুখ ও গলার ফোলাভাব উপশম হয়।

মাড়ি থেকে রক্তপাত থেকে মুক্তি পেতে টমেটোর উপকারিতাঃ টমেটোর রস বা জুস এবং জলের মিশ্রণ মাড়ি থেকে গার্গলিং করলে পর্যন্ত রক্তপাত কম করবে।

টমেটোর রস শ্বাসকষ্টে উপকারীঃ শ্বাসকষ্টের রোগে এভাবে লাল টমেটোর রস খাওয়া খুবই উপকারী। 10-15 মিলি টমেটো ফলের রস বা টমেটোর স্যুপ এক চামচ হরিদ্রার সাথে মিশিয়ে খেলে শ্বাসকষ্টের উপশম হয়।

ক্ষুধা কমানোর জন্য টমেটোর উপকারিতাঃ কোনো রোগের কারণে খাওয়ার ইচ্ছা না থাকলে নিম্নোক্ত উপায়ে লাল টমেটো খেলে উপকার পাওয়া যায়। ৩০-৪০ মিলি টমেটো ফলের রস খেলে ক্ষুধা, অত্যধিক পিপাসা এবং কোষ্ঠকাঠিন্যে উপকার পাওয়া যায়। এ ছাড়া টমেটো ফল ভাজলে তাতে শিলা লবণ ও কালো গোলমরিচের গুঁড়া মিশিয়ে খেলে খাওয়ার ইচ্ছা বেড়ে যায়।

কোষ্ঠকাঠিন্যে উপকারী টমেটোঃ কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন? এভাবে লাল টমেটোর মিশ্রণ তৈরি করে সেবন করুন। 10 মিলি টমেটো ফলের রস বা টমেটোর স্যুপে লবণ এবং কালো মরিচ মিশিয়ে খেলে বমি বমি ভাব, পিত্তজনিত রোগ, কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস্ট্রিক এবং অন্ত্রের জ্বালা রোগে উপকার পাওয়া যায়। এ ছাড়া 10-20 মিলি ফলের রস চিনির সঙ্গে মিশিয়ে খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যে উপশম হয়।

ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমের সাথে কাজ করেঃ আপনি যদি সবসময় পেট খারাপের সমস্যায় ভুগে থাকেন তাহলে এইভাবে লাল টমেটো খান। টমেটো ফল মাঝখান থেকে কেটে ১-২ গ্রাম কুইন্স পাউডার দিয়ে খাওয়ালে ডায়রিয়া এবং ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোমে উপকার পাওয়া যায়।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক টমেটোঃ আজকের লাইফস্টাইলের ফল হলো ডায়াবেটিস। ডায়াবেটিসে উপকারী রস টমেটো বা স্যুপ টমেটো নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রমাণ করে। টমেটোর রস খেলে ডায়াবেটিসে উপকার পাওয়া যায় ।

টমেটো আর্থ্রাইটিস থেকে মুক্তি দেয়ঃ টমেটো পাতা সিদ্ধ, পিষে ও লাগালে বাত ও বাত রোগে উপকার পাওয়া যায়।

জয়েন্টের ব্যথায় টমেটো উপকারীঃ আজকাল সব বয়সের মানুষই জয়েন্টের ব্যথায় ভুগে থাকেন। টমেটোর মূল এবং পাতা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। মূল ও পাতার সিদ্ধ তেল জয়েন্টে লাগালে ব্যথা ও মচকে উপশম হয়।

ত্বকের রোগে টমেটোর উপকারিতাঃ ত্বক সংক্রান্ত রোগে টমেটো খুব কার্যকরী কাজ করে। টমেটো পাতা পিষে লাগালে ক্ষত, ছিদ্রজনিত প্রদাহ এবং ত্বক সংক্রান্ত অন্যান্য সমস্যায় উপকার পাওয়া যায়।

ব্রণ বয়ঃসন্ধির প্রথম লক্ষণ। সব মেয়ে এবং ছেলেরা ব্রণ নিয়ে সমস্যায় থাকে। টমেটোর পাতা ও ফল পিষে লাগালে ব্রণ ও চর্মরোগে উপকার পাওয়া যায়।

মুখের দাগে উপকারী টমেটোঃ দাগের সমস্যায় ভুগলে টমেটো কেটে মুখে মাখলে মুখের কালো দাগ সেরে যায়।

চুলের জন্য উপকারী টমেটোঃ চুলে চকচকে ভাব আনতে চাইলে টমেটোর রস বা টমেটোর স্যুপে কর্পূর ও নারকেল তেল মিশিয়ে মাথায় লাগালে উপকার পাওয়া যায়।

দুর্বলতার সাথে লড়াই করতে সাহায্য করে টমেটোঃ 10-20 মিলি টমেটো ফলের রস বা টমেটোর স্যুপে চিনি মিশিয়ে খেলে শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতা, হতাশা এবং ঘুমের অভাবজনিত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

জ্বর থেকে মুক্তির ইঙ্গিতকারী টমেটোঃ জ্বর থেকে মুক্তি পেতে চাইলে টমেটোর রস বা টমেটোর স্যুপ খেতে হবে। 10-15 মিলি টমেটোর রস খেলে জ্বর ও পিপাসা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

গর্ভাবস্থায় টমেটো উপকারীঃ গর্ভাবস্থায় টমেটোর ব্যবহার উপকারী, কারণ এটি ভিটামিন-সি-এর প্রধান উৎস এবং আয়রনও এতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।

কাশি থেকে মুক্তি পেতে টমেটোর উপকারিতাঃ সর্দি-কাশির ক্ষেত্রে টমেটোর ব্যবহার উপকারী, কারণ টমেটোতে থাকা ভিটামিন-সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে সর্দি-কাশির উপসর্গ কমাতে সাহায্য করে।

শিশুর বৃদ্ধির জন্য টমেটো উপকারীঃ টমেটোর ব্যবহার শিশুদের বিকাশের জন্য খুবই উপকারী, কারণ টমেটোতে পাওয়া ভিটামিন-সি এবং অন্যান্য পুষ্টি শিশুদের বিকাশে সাহায্য করে।

হাড়ের বৃদ্ধির জন্য টমেটো উপকারীঃ টমেটো খাওয়া হাড়ের মজবুতির জন্য উপকারী, কারণ টমেটোতে ক্যালসিয়ামের সাথে ভিটামিন ‘কে’ পাওয়া যায়, যা হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে।

ওজন কমাতে টমেটোর উপকারিতাঃ আপনার যদি ওজন বাড়তে থাকে, তাহলে টমেটো খাওয়া আপনার জন্য উপকারী হতে পারে, কারণ টমেটোতে রয়েছে 95 শতাংশ জলের উপাদান, সেই সঙ্গে এতে রয়েছে মূত্রবর্ধক উপাদান, যা শরীরের ময়লা দূর করে এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে। টমেটোর রস স্থূলতা কমাতে সাহায্য করে।

শিশুর জন্য উপকারী টমেটোঃ শিশুদের প্রতিদিন টমেটো খাওয়ানো উপকারী হতে পারে কারণ টমেটোতে পাওয়া পুষ্টিগুণ শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য উপকারী।

টমেটোর দরকারী অংশ

আয়ুর্বেদে টমেটোর ফল ও পাতা সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।

কিভাবে টমেটো ব্যবহার করা উচিত?

প্রতিটি রোগের জন্য টমেটো খাওয়া এবং ব্যবহার করার পদ্ধতি সম্পর্কে ইতিমধ্যেই বলা হয়েছে। আপনি যদি কোনো বিশেষ রোগের চিকিৎসার জন্য টমেটো ব্যবহার করেন, তাহলে অবশ্যই একজন আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী-
-10-20 মিলি রস খাওয়া উচিত।

টমেটো খাওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

এর পাতা বিষাক্ত। 100 গ্রাম বা তার বেশি গ্রহণ করলে ধীর হৃদস্পন্দন, ব্যথা, খিঁচুনি, ডায়রিয়া, শ্বাস নিতে অসুবিধা, মাথাব্যথা, বমি এবং শ্বাস নিতে অসুবিধা।
সতর্কতা- পাইলস রোগীদের টমেটো খাওয়া উচিত নয়।
টমেটো কোথায় পাওয়া যায় বা জন্মায়?
এটি মূলত গ্রীষ্মমন্ডলীয় দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম অঞ্চলে পাওয়া যায়, কিন্তু এখন বাংলাদেশের সর্বত্র চাষ করা হয়। এটি সবুজ শাক, টমেটো সস, সালাদ এবং টমেটো স্যুপ ইত্যাদির আকারে ব্যবহৃত হয়।

Rate this post

Farhana Mourin

আমি একজন বিউটি ব্লগার। রূপচর্চা বিষয়ক অনেক এক্সপেরিমেন্টের মাধ্যমে পাওয়া টিপস গুলো আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করি। আমাকে আরো উৎসাহিত করতে আমার দেয়া টিপস গুলো থেকে আপনি কতটুকু উপকার পেলেন তা অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button