ডিজিটাল মার্কেটিং: ধারণা, বিস্তার এবং সফলতার উপায়।

বর্তমানে ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রায় সকল রূপ আমাদের সামনে। পুরো বিশ্ব আজ আমাদের হাতের মুঠোয় । প্রতিটি ক্ষেত্রেই যেন ডিজিটাল বাংলাদেশের ছোঁয়া আমাদের এই ছোট্ট জীবনকে ত্বরান্বিত করছে। শিক্ষা জীবন থেকে শুরু করে ব্যবসা ক্ষেত্র পর্যন্ত এর বিস্তার। ঠিক তেমনি এই ডিজিটালাইজেশন এর ব্যবসা ক্ষেত্রের একটি রূপ হলো “ডিজিটাল মার্কেটিং “।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর ধারণা:

মার্কেটিং ব্যবসায়ীদের মূল অস্ত্র । একমাত্র মার্কেটিং এর মাধ্যমেই তাদের ব্যবসা ক্ষেত্রে লাভজনক ফলাফল আশা করা যায় । তাই বলা যায় মার্কেটিং ব্যবসার মূল মন্ত্র। মূলত মার্কেটিং বলতে কোনো একটি প্রোডাক্ট এর যথাযথ প্রচার -প্রচারণা কে বুঝানো হয়ে থাকে।

মার্কেটিং এর মূল উদ্দেশ্য হলো একে জনসম্মুখে তুলে ধরা এবং সেটিকে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে নিয়ে সঠিক গুণগত মান বৃদ্ধির মাধ্যমে তার আশাজনক লাভ অর্জন করা। মার্কেটিং বিভিন্ন উপায়ে করা হয়ে থাকে। আর যখন এই মার্কেটিং ইন্টারনেট এবং অত্যাধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তি যেমন কম্পিউটার, মোবাইল ফোন এবং অন্যান্য ডিজিটাল মিডিয়া ও প্লাটফর্ম এর সহায়তা নিয়ে প্রোডাক্ট এর প্রচার প্রচারণা করা হয়, সেটিকেই বলা হয় “ডিজিটাল মার্কেটিং “।

আমরা অনেকেই হয়ত ডিজিটাল মার্কেটিং শব্দটি শুনে থাকলেও জানিনা এর সঠিক ব্যবহার কিংবা তার কোনো প্রয়োগ। এছাড়া ডিজিটাল মার্কেটিং এর বিস্তার সম্পর্কেও আমাদের অনেকেরই নেই কোনো ধারণা। আবার অনেকে এর ধারণা জানলেও কীভাবে এই ডিজিটাল মার্কেটিং এ আদর্শ হওয়া যায় তা নিয়ে নেই কোনো ধারণা। তাই চলুন আজ জেনে নেয়া যাক ডিজিটাল মার্কেটিং এর বিস্তার, ব্যবহার এবং কীভাবে এই মার্কেটিং এ সফল হওয়া যায় তার কিছু সার কথা।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর বিস্তার এবং ব্যবহার:

ডিজিটাল মার্কেটিং খুব অল্প দুটি শব্দ হলেও এর ক্ষেত্র অনেক ব্যাপক। ডিজিটাল মার্কেটিং এর কিছু ক্ষেত্র সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক:-
1.Search Engine Optimization (SEO)
2. Search Engine Marketing (SEM)
3. Mobile Marketing
4. Social Media Marketing
5. Email Marketing
6. Digital Display Marketing
7.Affliate Marketing
8. Cost Per Action Marketing (CPA Marketing)
9.Content Marketing

এগুলো ছাড়াও ডিজিটাল মার্কেটিং এর আরো বেশ কিছু ক্ষেত্র রয়েছে। সত্য বলতে ডিজিটাল মার্কেটিং আসলে একক কোনো একটি বিষয় নয়। এর নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু ক্ষেত্র রয়েছে এবং প্রতিটি ক্ষেত্রই অনেক ব্যাপক। তাই এগুলো এক একটি বিষয় নিয়ে আলাদা ভাবে বিস্তারিত জানতে হবে। আর এই সবগুলো ক্ষেত্রের মিলিত রূপই হলো “ডিজিটাল মার্কেটিং “।

ডিজিটাল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রগুলো নিয়ে সার কথাগুলি আলোচনা করা যাক:

1. Search Engine Optimization :

এই মার্কেটিং ক্ষেত্রকে সংক্ষেপে ‘SEO Marketing’ বলা হয়ে থাকে। Search Engine Optimization হলো এর মাধ্যমে কোনো website এর “Key Word” কে নির্দিষ্ট সার্চ ইঞ্জিন এ ‘Rank’ করানো হয়। ধরুন, আপনি গুগলে কোনো একটি বিষয় নিয়ে সার্চ করলেন । এখন আপনি নিশ্চয়ই লক্ষ্য করে থাকবেন যে সার্চ করার জন্য সম্পূর্ণ টাইপ করার আগেই গুগল থেকে আপনাকে বেশ কিছু প্রসঙ্গত বিষয়ে তুলে ধরা হয়। এবং অনেকাংশেই দেখা যায় আপনি সম্পূর্ণ টাইপ করার পূর্বেই আপনার নির্ধারিত টপিকটি আপনি পেয়ে যান। এবং সার্চ করার পর অনেকগুলো সাইট থেকেই আপনি রিভিউ দেখতে পারবেন । এর মাঝে সময় বাঁচানোর উদ্দেশ্যে আপনি নিশ্চয়ই যে রিভিউটি প্রথমে দেখাবে সেটিটেই ক্লিক করবেন। মূলত এইযে রিভিউ গুলির একটি ‘Serial’ বা ‘Ranking’ – এই কাজটিই করা হয় SEO Marketing বা Search Engine Optimization এর সহায়তায়। আর এর বিস্তৃতিই হলো ‘SEO Marketing’.

2.Search Engine Marketing (SEM):

Search Engine Marketing হলো এক ধরণের ‘Business Forum’ যেখানে মূল কাজ হলো ইন্টারনেট এর সহায়তায় কোনো একটি Website কে সার্চ ইঞ্জিন এ তার ‘Visibility’ বাড়ানোর মাধ্যমে উন্নয়ন ঘটানো। মূলত এখানে সেই website থেকে কিছু ‘Paid’ অ্যাডভারটাইজমেন্ট দেখানো হয়। এবং এই সম্পূর্ণ ক্ষেত্রটি হলো Searh Engine Marketing।

3. Mobile Marketing:

Mobile Marketing একটি মালটি চ্যানেল মার্কেটিং প্লাটফর্ম যেটির উদ্দেশ্য হলো ‘Audience’ এর স্মার্টফোন এর নিকট পৌঁছে তাদেরকে বিভিন্ন ফোন, ট্যাবলেট কিংবা অন্যান্য ডিভাইসের ফিচার এর প্রচারণা। এটি করা হয় মূলত SMS, MMS , Mobile Application কিংবা ওয়েবসাইট দ্বারা ।

4. Social Media Marketing (SMM):

বর্তমানে এটি একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় মার্কেটিং প্লাটফর্ম । কেননা আমাদের সকলেই প্রতিনিয়তই স্যোশাল মিডিয়া তে সব সময় সঙ্গত থাকি। আর তাই Social Media Marketing অনেকেরই পছন্দসই প্লাটফর্ম । মূলত বিভিন্ন Social Media তে কোনো প্রোডাক্ট এর প্রচার প্রচারণার মাধ্যমে মার্কেটিং করাই হলো ‘Social Media Marketing’।

5. Email Marketing:

ইমেইল এর সাহায্যে যখন কিছু সাংখ্যিক কাস্টমারকে কমার্সিয়াল মেসেজ দেয়া হয় সেটাই মূলত Email Marketing । ধরুন আপনি একজন কাস্টমার এর সাথে কাজ করছেন। সে সময়ে তার নিকট আপনি কমার্সিয়াল উদ্দেশ্যে যে কোনো মেসেজ তাকে পাঠালেই সেটি ইমেইল মার্কেটিং হিসেবে গণ্য হবে। এবং স্বাভাবিক ভাবেই এর উদ্দেশ্য হলো অ্যাডভারটাইজ এবং বিজনেস এর জন্য আবেদন।

6. Digital Display Marketing:

ইন্টারনেট এর সহায়তা নিয়ে যখন বিভিন্ন ওয়েবসাইট, অ্যাপস্ কিংবা সোশ্যাল মিডিয়া তে ব্যানার, টেক্সট, ইমেইজেস, ফ্লাশ, ভিডিও অথবা অডিও এর মাধ্যমে গ্রাফিক অ্যাডভারটাইজ করাকে বলা হয় Digital Display Marketing । এর মূল উদ্দেশ্য হলো সাইট ভিজিটরদের নিকট কিছু ব্রান্ড মেসেজ এবং জেনারেল অ্যাডভারটাইজ প্রচার করা। তবে যেহেতু এক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির আশ্রয়ে কাজ করা হয় তাই এই ক্ষেত্রটি বেশ ব্যয়বহুল।

7. Affliate Marketing:

অন্য কোনো ক্লায়েন্ট এর প্রোডাক্ট প্রচারের মাধ্যমে তা সেল করার পর সেই ক্লায়েন্ট এর নিকট থেকে কমিশনের কিছু অংশের শেয়ার পাওয়ার মাধ্যমে যে মার্কেটিং বিজনেস করা হয় তাই-ই হলো Affliate Marketing। উদাহরণ স্বরূপ – ধরুন আপনি আপনার প্রোডাক্ট একজনকে দিলেন যেন সে আপনার প্রোডাক্ট এর যথাযথ প্রচার করিয়ে সেল করে। এবং সেটার যে সম্পূর্ণ কমিশন আপনি পাবেন তার কিছু অংশ সেই ক্লায়েন্ট এর সাথে শেয়ার করলেন। এক্ষেত্রে সেই ক্লায়েন্ট যে কমিশন পেল এটিই তার জন্য একটি Affliate Marketing ।

8. Cost Per Action Marketing :

CPA Marketing মূলত Affliate Marketing এর একটি ‘Style’ মাত্র। কিন্তু পার্থক্য হলো Affliate Marketing এ আপনি কাস্টমার রেজিস্ট্রার করানোর পর যদি তারা প্রোডাক্ট নিতে যদি সম্মতি না দেয় তাহলে আপনি কোনো কমিশন পাবেন না। আপনি তখনই কমিশন পাবেন যখন আপনি কাস্টমারের কাছে আপনার ক্লায়েন্ট এর প্রোডাক্ট সেল করাতে পারবেন। অন্যদিকে CPA Marketing এ আপনার প্রোডাক্ট সেল না হলেও সমস্যা নেই। এক্ষেত্রে আপনাকে শুধু আপনার Affliate এ কাস্টমারকে রেজিস্ট্রার করাতে হবে। আর রেজিস্ট্রার করালেই আপনি আপনার কমিশন পেয়ে যাবেন। যেহেতু এখানে প্রোডাক্ট সেল না করালেও কমিশন পাওয়া সম্ভব, তাই অনেকেই এই মার্কেটিং এর প্রতি বেশ উৎসুক।

9. Content Marketing:

Content Marketing হলো এমন একটি ক্ষেত্র যেটি কিছু সৃজনশীল সৃষ্টি এবং অনলাইন বিষয়বস্তু যেমন ভিডিও, ব্লগ এবং সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এর মাধ্যমে কাজ করে থাকে। মূলত এটি কোনো একটি কন্টেন্ট কে কেন্দ্র করে রেলিভেন্ট, সৃজনশীল এবং জ্ঞান বিষয়ক তথ্য প্রদান করে যা কিছু লেখনীর মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তবে এটি কোনো ব্রান্ড এর প্রচার করে না কিন্তু কোনো প্রডাক্ট বা সার্ভিস এর প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করে। বর্তমানে এটি ডিজিটাল মার্কেটিং এ একটি অনন্য জায়গা দখল করে রয়েছে।

ডিজিটাল মার্কেটিং একটি ব্যাপক বিস্তৃতি । এগুলো মূলত ডিজিটাল মার্কেটিং এর প্রধান ক্ষেত্র সমূহ। তবে এগুলো ছাড়াও ডিজিটাল মার্কেটিং এর আরো বেশ কিছু ক্ষেত্র রয়েছে।

অনেকেই ডিজিটাল মার্কেটিং এর সাথে পরিচিত হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে এক্ষেত্রে সফল হওয়া যায় তা নিয়ে দ্বিধা দ্বন্দ্বে পড়েন। ডিজিটাল মার্কেটিং এ কীভাবে পারদর্শী হওয়া যায় তার কিছু উপায় সমূহ জেনে নেয়া উচিত । যেমন-

1. আপনার website কে নিয়মিত আপডেটেড রাখুন এবং আপডেটেড ও ইফেকটিভ কন্টেন্ট যোগ করুন।
2. আপনার website এ কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স এর ব্যবস্থা রাখুন।
3. লোকাল SEO এর অ্যাডভান্টেইজ নিয়ে website কে ডেভেলপ করুন।
4. Google এ একটি ‘My Business’ প্রোফাইল রাখুন।
5. একটি ‘Online Reputation Management ‘ তৈরি করুন।
6. SEO এবং SEM এর সুবিধা নিয়ে এর সঠিক ব্যবহার করুন।
7. একটি শক্তিশালী এবং সার্বক্ষণিক ‘Call to action’ নিয়ন্ত্রণ করুন।
8. Online এ আপনার পারফরম্যান্স কে ট্র্যাক করুন এবং আপগ্রেড করুন।
9. কোনো কিছু করার পূর্বে একটি নিজস্ব ম্যাপ আউট করুন।


ডিজিটাল মার্কেটিং একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় প্লাটফর্ম । বর্তমানে অনেকেই এই প্লাটফর্ম কে নিজেদের পেশাইসেবে বেছে নিচ্ছে । তাই দেরি না করে নিজের স্কিল ডেভেলপ করে আপনিও এই প্লাটফর্ম এর সদস্য হয়ে যান। নিশ্চয়ই সাফল্য আপনার ঘরেই কড়া নাড়ছে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *