তিসির উপকারিতা

প্রাচীনকাল থেকেই নানা রোগের চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে আসছে তিসি বীজ। তিসি বীজ নানা প্রকার রোগ মুক্তির এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য আজ জগৎ খ্যাত। এটি একটি আঁশযুক্ত খাবার এবং এই বীজকে “সুপারফুড” ও বলা হয়ে থাকে। তিসির উপকারিতা নিয়ে আজকের পোস্ট।

তিসি বীজে রয়েছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড, প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াস, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, অ্যামিনো অ্যাসিড, আর্জিনাইন এবং গ্লুটামাইন, এছাড়াও এটি ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি-৬,ভিটামিন ডি দ্বারা সমৃদ্ধ। 

তিসির উপকারিতা

তিসির উপকারিতা 

১.রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে তিসির উপকারিতা অপরিসীম। তিসি বীজে থাকা প্রতিটি উপাদানই কমবেশি আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে থাকে। নিয়মিত তিসি বীজ খেলে শরীরের ফ্যাটি এসিড থেকে শুরু করে নানা ভিটামিনের চাহিদা পূরণ হয় এবং এতে বিদ্যমান অ্যামিনো অ্যাসিড

আমাদের ইমিউন সিস্টেম কে অনেক বেশি বুস্ট করে এবং সর্দি কাশির মতো ছোটখাটো রোগ থেকে শুরু করে ক্যান্সার এর মতো কঠিন রোগের ঝুঁকি কমায়। এবং শরীরকে কোনো রকম সংক্রমণব্যাধি তেও সহজে আক্রান্ত হতে দেয়না।

২.ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণ করে

আমাদের দেশে যেসব রোগ গুলো লিস্টের প্রথমে অবস্থান করে অর্থাৎ যেসব রোগ আমাদের দেশের নারী এবং পুরুষ এর মধ্যে ভয়াবহ রুপ ধারন করেছে এর মধ্যে অন্যতম হলো ব্লাড প্রেশার। 

প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যদি ৩০ গ্রাম পর্যন্ত তিসি বীজ রাখা যায় তাহলে এই রোগের ঝুকি কমে যায়।এবং যাদের হাই ব্লাড প্রেশার তাদের প্রেশার স্বাভাবিক এর কোটায় চলে আসে।

৩.কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ করে

বিভিন্ন চিকিৎসাবিদ্যার গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত তিন চামচ করে তিসি বীজ খেলে খারাপ কোলেস্টেরলের পরিমাণ অর্থ্যাৎ LDL ২০% পর্যন্ত কমে যায়।এবং ভালো কোলেস্টরেল HDL এর মাত্রা প্রায় ১৫% পর্যন্ত বেড়ে যায়।

৪.ওজন কমাতে সাহায্য করে

নিয়মিত তিসি বীজ সেবনে এতে থাকা ফাইবার অধিক মাত্রায় শরীরে অবস্থান করায় অনেকক্ষণ মানুষের পেট ভরা থাকে যা খাবারের চাহিদা অনেক কমিয়ে দেয় এবং খুব কম পরিমাণে ক্যালরি গ্রহণ এর ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।

 ৫.ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়

তিসি বীজ এ থাকা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।নিয়মিত তিসি বীজ সেবনে  ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড পরিমানে বেড়ে যায় যা আমাদের ছোটখাটো যে কোন রোগের হাত থেকে বাচায়। এর পাশাপাশি যখন এটা অতিমাত্রায় বেড়ে যায় তখন শরীরে ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক কমে যায়। 

তিসির উপকারিতা
তিসির উপকারিতা

 ৬.চুল ও  ত্বক সুন্দর রাখে

তিসিতে থাকা খাদ্য উপাদান শরীরের নানা রোগমুক্তির পাশাপাশি আমাদের ত্বক এবং চুলের জন্য ও অনেক বেশি উপকারী। তিসি বীজে থাকা ভিটামিন এবং অন্যান্য উপাদান ত্বকের বলিরেখা দূর করতে সহায়তা করে,ত্বক উজ্জ্বল এবং প্রানবন্ত করে এবং নিয়মিত এই বীজ খাবার ফলে স্কাল্পে রক্তপ্রবাহ বেড়ে যায়।যা চুল পড়া কমাতে এবং নতুন চুল গজাতে অনেক সাহায্য করে। এছাড়াও তিসি ব্লেন্ড করে এর আঠালো পানি চুলে নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল ঘন, কালো এবং মসৃণ হয়। 

৭.হৃদপিণ্ড ভালো রাখে

যেহেতু তিসি বীজ আমাদের শরীরের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল LDL কমিয়ে ফেলে,এবং ভালো কোলেস্টেরল অর্থাৎ HDL এর পরিমাণ বৃদ্ধি করে সেহেতু আমাদের হার্ট অ্যাটাক এর ঝুঁকি অনেক কমে যায়।এবং আমাদের হৃদপিণ্ডকে সুস্থ স্বাভাবিক থাকে।কিন্তু যারা অলরেডি হৃদপিন্ড  নিয়ে নানা জটিলতায় ভুগছেন তারা এই বীজ গ্রহণের পূর্বে অবশ্যই চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে নিবেন।

 ৮.অ্যাংজাইটির প্রকোপ কমায়

তিসি বীজ ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড এর চাহিদা পূরণ করে। আর শরীরকে সব দিক থেকে এক্টিভ রাখতে এই ওমেগা থ্রি ফ্যাটি এসিড এর তুলনা হয়না। স্পেশালি যাদের অ্যাংজাইটির সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য অনেক উপকারী ভূমিকা পালন করে।

৯.মাসিকের সমস্যা দূর করে

আমাদের দেশে মেয়েদের মধ্যে মাসিকের সমস্যা অনেক বেশি বেড়ে গেছে। অনিয়মিত মাসিক এখন আমাদের দেশে একটি সাধারণ ব্যধি হয়ে গেছে। এই রোগ নিরসনে একটি সাইকেল ফলো করা হয় যাকে বলে “সিড সাইকেলিং”

এই সিড সাইকেলিং এ অনেকেই অনেক ভালো উপকার পেয়েছেন এবং এর অন্যতম একটি উপাদান হলো তিসির বীজ। কিন্তু এই প্রক্রিয়া গ্রহণের জন্য অবশ্যই চিকিৎসক এর পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

নিচের পোস্ট গুলো আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, পড়ে নিন

১০. ডায়াবেটিস রোগীদের স্বাস্থ্যকে নিয়ন্ত্রণে রাখে

১১.তিসি বীজ শরীরে প্রোটিনের চাহিদা মেটায় 

১২.তিসি হজম শক্তি বাড়ায়

১৩.দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে

১৪.ইস্ট্রোজেন হরমোন বাড়ায়।

সতর্কতা 

  • গর্ভাবস্থায় বা যেসব মায়েরা তার সন্তানদের বুকের দুধ পান করাচ্ছেন তাদের এই বীজ খাওয়া উচিত নয়।
  • যাদের অলরেডি হাই ব্লাড প্রেসার এবং ক্যান্সার রয়েছে তারা এই বীজ গ্রহণের পূর্বে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিবেন।
  • কোনো একটি রোগের জন্য যদি অলরেডি মেডিসিন সেবনরত হয়ে থাকেন তাহলে এই বীজ খাওয়া হতে বিরত থাকুন।

আর পড়ুনঃ

Conclusion

তিসির উপকারিতা আরো অনেক আছে, যেগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা এখানে তুলে ধরা হয়েছে। সর্বোপরি প্রাকৃতিক নানা উপাদানসমূহের যতই গুনাগুন থাকুক না কেনো তার সঠিক উপকার পেতে হলে বা আপনি আদৌ এই উপাদানটি গ্রহণ করতে পারবেন কিনা তা অবশ্যই কোনো চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে। এর পাশাপাশি এটি গ্রহণ করার নিয়মাবলি সম্পর্কে অবগত হতে হবে।

এই আর্টিকেলে ব্যবহৃত এক বা একাধিক কপিরাইটবিহীন ছবি Freepik.com থেকেে সংগৃহীত হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *