তুলসী পাতার উপকারিতা

আমাদের পূর্বসূরিরা হাজার বছর আগে তুলসীর ঔষধি গুণ সম্পর্কে জানতেন, তাই এটি দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহারের জন্য একটি বিশিষ্ট স্থান দেওয়া হয়েছে। আয়ুর্বেদেও তুলসীর উপকারিতার বিস্তারিত উল্লেখ আছে। এই প্রবন্ধে, আমরা আপনাকে তুলসী পাতার উপকারিতা, ঔষধি গুণ এবং ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত বলছি।

Contents

তুলসী কি?

তুলসী একটি ঔষধি উদ্ভিদ, যেখানে ভিটামিন এবং খনিজ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। সমস্ত রোগ দূর করতে এবং শারীরিক শক্তি বৃদ্ধির গুণে ভরপুর এই ঔষধি উদ্ভিদকে সরাসরি দেবী বলা হয়েছে কারণ এর চেয়ে মানবজাতির জন্য উপকারী আর কোন ঔষুধ নেই। তুলসীর ধর্মীয় গুরুত্বের কারণে এর গাছপালা প্রতিটি বাড়িতে রোপণ করা হয়। তুলসীর অনেক জাত আছে। যার মধ্যে শ্বেত এবং কৃষ্ণ বিশিষ্ট। তিনি রাম তুলসী এবং কৃষ্ণ তুলসী নামেও পরিচিত।

তুলসী উদ্ভিদ সাধারণত 30 থেকে 60 সেমি উঁচু হয় এবং এর ফুল ছোট সাদা এবং বেগুনি রঙের হয়। এর ফুল ও ফলের সময় জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত।

অন্যান্য ভাষায় বিভিন্ন ভাষায় তুলসীর নাম
তুলসীর বোটানিক্যাল নাম Ocimum sanctum Linn। (Ocimum sanctum) এবং পরিবারের নাম Lamiaceae (Lamiaceae)। অন্যান্য ভাষায় এটি নিম্নলিখিত নাম দ্বারা ডাকা হয়।

তুলসী:

তামিল – তুলশী
তেলেগু – গাগর চেতু
সংস্কৃত: তুলসী, সুরসা, দেবদুন্দুবি, অপ্রেক্ষশী, সুলভা, বহুমঞ্জরী, গৌরী, ভুটঘানি
ইংরেজি: তুলসী, বৃন্দা
ওড়িয়া: তুলসী
কন্নড়: আড়দ তুলসী
গুজরাটি: তুলসী
বাংলা: তুলসী
নেপালি: তুলসী
মারাঠি: তুলাস
মাল্যলাম: কৃষ্ণাতুলসী
আরবি: দোশ

তুলসী পাতার উপকারিতা এবং ব্যবহার

তুলসী পাতা ঔষধি ব্যবহারের দিক থেকে অধিক উপকারী বলে বিবেচিত হয়। আপনি এগুলি সরাসরি উদ্ভিদ থেকে খেতে পারেন। তুলসী পাতার মতো তুলসী বীজের উপকারিতাও অগণিত। আপনি তুলসী বীজ এবং পাতার গুঁড়া ব্যবহার করতে পারেন। এই পাতায় কফ, বাত দোষ দূর করে, হজম শক্তি এবং ক্ষুধা বাড়ায় এবং রক্ত ​​শুদ্ধ করে এমন বৈশিষ্ট্য রয়েছে।

এছাড়া জ্বর, হৃদরোগ, পেট ব্যথা, ম্যালেরিয়া এবং ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ইত্যাদিতে তুলসী পাতার উপকারিতা খুবই উপকারী। তুলসীর ঔষধি গুণে শ্যাম তুলসিকে রাম তুলসীর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। তুলসীর উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।

তুলসী পাতা মস্তিষ্কের উপকারী

তুলসীর উপকারিতা মস্তিষ্কের জন্যও বিস্ময়করভাবে কাজ করে। এর দৈনন্দিন ব্যবহার মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে এবং স্মৃতিশক্তি তীক্ষ্ণ করে। এজন্য প্রতিদিন তুলসীর 4-5 পাতা পানির সাথে গিলে খেয়ে নিন।

তুলসী মাথাব্যথা থেকে মুক্তি দেয়

অতিরিক্ত পরিশ্রম বা মানসিক চাপের সময় মাথাব্যথা হয়। যদি আপনিও প্রায়ই মাথাব্যথার সমস্যায় ভুগেন, তাহলে কয়েক ফোঁটা তুলসী তেল নাকে লাগান। এই তেল নাকে লাগালে দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথা এবং মাথার অন্যান্য রোগে আরাম পাওয়া যায়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল তুলসী ব্যবহারের পদ্ধতি সঠিক হওয়া উচিত।

তুলসী মাথার উকুন দূর করতে সাহায্য করে

যদি আপনার মাথায় উকুন থাকে এবং এই সমস্যাটি বেশ কয়েক দিন ধরে সেরে উঠছে না, তাহলে আপনার চুলে তুলসী তেল লাগান। তুলসী গাছ থেকে তুলসী পাতা নিয়ে চুলে লাগালে তাদের মধ্যে থাকা উকুন ও নিট মারা যায়। তুলসী পাতার উপকারিতা, তুলসী তেল তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

তুলসীর রস রাতের অন্ধত্বের জন্য উপকারী

অনেকেই রাতে ঠিকমতো দেখতে পান না, এই সমস্যাকে বলা হয় রাতের অন্ধত্ব। আপনি যদি রাতকানা রোগে ভুগছেন তাহলে তুলসী পাতা আপনার জন্য খুবই উপকারী। এজন্য দিনে দুই থেকে তিন ফোঁটা তুলসী-পত্র-স্বরু চোখে ২- বার লাগান।

সাইনোসাইটিস বা পিনাস রোগে উপকারী

আপনি যদি সাইনোসাইটিসের রোগী হন, তাহলে তুলসী পাতা বা মঞ্জরী ম্যাশ করে গন্ধ নিন। এই পাতার গন্ধ সাইনোসাইটিস থেকে দ্রুত আরাম দেয়।

কান ব্যথার জন্য তুলসী পাতার উপকারিতা

তুলসী পাতা কানের ব্যথা ও প্রদাহ দূর করতেও কার্যকর। যদি কানে ব্যথা হয়, তাহলে তুলসী-পাতা-স্বর গরম করে কানে 2-2 ফোঁটা দিন। এটি কানের ব্যথা থেকে দ্রুত আরাম দেয়। একইভাবে, যদি কানের পেছনের অংশে ফোলাভাব থাকে, তাহলে তা থেকে আরাম পেতে তুলসী পাতা ও ক্যাস্টর কুঁড়ি পিষে নিন এবং তাতে কিছু লবণ মিশিয়ে গরম করার পর লাগান। তুলসী পাতা খাওয়া কানের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতেও উপকারী।

কান দরদ

দাঁতের ব্যথা থেকে মুক্তি (দাঁতের ব্যথার জন্য তুলসী উপকারিতা)

তুলসী পাতা দাঁতের ব্যথা উপশমেও কার্যকর। দাঁতের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে, কালো মরিচ এবং তুলসী পাতার একটি ট্যাবলেট তৈরি করুন।

দাদিতে তুলসী সিন্দুক উপকারী

তুলসীর নির্যাস দাদ এবং চুলকানির জন্য উপকারী কারণ এর রোপণ বৈশিষ্ট্য। এটি দাদ এর চুলকানি কমায়, সেইসাথে ক্ষত দ্রুত নিরাময়ে সাহায্য করে। যদি তুলসি নির্যাস খাওয়া হয়, রক্ত ​​বিশুদ্ধকারী হয়ে, এটি অশুদ্ধ রক্তকে পরিষ্কার করে, অর্থাৎ রক্তকে বিশুদ্ধ করে এবং ত্বক সংক্রান্ত সমস্যা দূর করতে সহায়ক।

মাসিক অনিয়মিত অবস্থায় মাসিক নিয়মিত করতে তুলসী বীজের উপকারিতা

শরীরে ভাত দোষ বৃদ্ধির কারণে মাসিকের অনিয়ম হয়। তুলসীর বীজের মধ্যে ভাত নিয়ন্ত্রণের সম্পত্তি আছে, তাই এটি মাসিকের অনিয়মে ব্যবহার করা যেতে পারে। তুলসী বীজ দুর্বলতা দূর করতে সহায়ক, যার কারণে এটি মাসিকের সময় অনুভূত দুর্বলতা দূর করতে সাহায্য করে।

দুর্গন্ধ দূর করতে তুলসীর ব্যবহার

দুর্গন্ধ হজম শক্তির কারণে হয়। তুলসী তার হালকা এবং হজম বৈশিষ্ট্যগুলির কারণে দুর্গন্ধ দূর করতে সহায়ক। প্রাকৃতিক সুগন্ধের কারণে এটি দুর্গন্ধকেও ধ্বংস করে।

আঘাতের চিকিৎসায় তুলসী উপকারী

তুলসী ক্ষতের জন্যও ব্যবহৃত হয় কারণ এতে প্রদাহ-বিরোধী এবং প্রদাহ-বিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তুলসীর এই সম্পত্তি ক্ষত এবং তার ফোলা নিরাময়েও সহায়ক।

গ্লো বাড়ানোর জন্য তুলসী উপকারী

মুখের হারানো উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে তুলসী ব্যবহার করা হয়, কারণ এতে শুকানোর এবং রোপণের বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এর রুক্ষ বৈশিষ্ট্যের কারণে এটি মুখ থেকে ত্বকের অতিরিক্ত তৈলাক্ততা রোধ করে, যা ব্রণ এবং ব্রণ দূর করতে সাহায্য করে। যদি তুলসী খাওয়া হয়, তার রক্ত ​​পরিশোধক বৈশিষ্ট্যের কারণে, অশুদ্ধ রক্ত ​​পরিশোধন করে মুখের ত্বক উন্নত করা যায়।

সাপের কামড়ে তুলসী উদ্ভিদ সাহায্য করে

5-10 মিলি তুলসী-পত্র-ভারুস নিয়ে তার মঞ্জরি ও শিকড় পিষে নিয়ে সাপের কামড়ের জায়গায় লাগালে সাপের কামড়ে আরাম পাওয়া যায়। যদি রোগী অজ্ঞান হয়ে যায়, তাহলে এর রস নাক দিয়ে ফোঁটাতে হবে।

সারসংক্ষেপ:

তুলসীর সাধারণ ডোজ

সাধারণত, তুলসী খাওয়া উচিত নিচে উল্লেখ করা পরিমাণ অনুযায়ী। আপনি যদি কোন বিশেষ রোগের চিকিৎসার জন্য তুলসী ব্যবহার করেন, তাহলে অবশ্যই একজন আয়ুর্বেদিক ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

পাউডার: 1-3 গ্রাম
স্বর: 5-10 মিলি
কেন্দ্রীভূত নির্যাস: 0.5-1 গ্রাম
নিষ্কাশন: 0.5-1 গ্রাম
কোয়াথ চূর্ণ: 2 গ্রাম বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
তুলসী উদ্ভিদ কোথায় পাওয়া যায় বা জন্মে
আপনি আপনার বাড়ির আঙ্গিনায় তুলসীও জন্মাতে পারেন। সাধারণভাবে, তুলসী উদ্ভিদের কোন বিশেষ জলবায়ুর প্রয়োজন হয় না। এটি যে কোন জায়গায় জন্মাতে পারে। একটি ধর্মীয় বিশ্বাস আছে যে তুলসী গাছ শুকিয়ে যায় যদি তুলসী গাছ সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ না করা হয় বা গাছের চারপাশে ময়লা থাকে।

তুলসী সম্পর্কে প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী

1- তুলসী খেলে কি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়?

আয়ুর্বেদ অনুযায়ী, তুলসীর medicষধি গুণ রয়েছে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা) বাড়াতে সাহায্য করে। এই কারণেই আয়ুর্বেদিক অনুশীলনকারীরা শীতের মৌসুমে বা seasonতু পরিবর্তনের (seasonতু পরিবর্তন) তুলসী খাওয়ার পরামর্শ দেন। নিয়মিত তুলসী সেবনে শরীর দ্রুত অসুস্থ হয় না এবং অনেক মৌসুমী রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়।

2- ঠান্ডা এবং কাশি থেকে মুক্তি পেতে তুলসী কিভাবে ব্যবহার করবেন?

শীতের মৌসুমে যদি আপনি প্রায়ই ঠান্ডা -ঠাণ্ডায় কষ্ট পান, তাহলে তুলসী চা খান। ঠান্ডা এবং ফ্লুর চিকিৎসার জন্য তুলসি চা একটি aceষধ। আপনি চাইলে সরাসরি বাজার থেকে তুলসী চা কিনে সেবন করতে পারেন, অথবা ঘরে তৈরি চায়ে তুলসীর 3-4- leavesটি পাতা যোগ করে খেতে পারেন। এর ব্যবহার সর্দি -কাশির উপসর্গ থেকে দ্রুত আরাম দেয়।

5/5 - (18 votes)

Farhana Mourin

I am a Blogger. I love to write posts for the people.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!