ব্রণ কেন হয় এবং ব্রণ হলে করণীয়

আমাদের শরীরের উপরিভাগ ত্বকে আবৃত। আমাদের শরীরের ত্বকের তুলনায় আমাদের মুখমণ্ডল এর ত্বক অনেকটা বেশি সেন্সিটিভ। তাই এর যত্নে আমাদের একস্ট্রা খেয়াল রাখতে হয়। আমাদের মুখমন্ডলের ত্বকের যতগুলো প্রবলেম আছে এর মধ্যে সবচেয়ে ভাইটাল একটা প্রবলেম হলো একনে /পিম্পল  বা ব্রণ। এখন  ত্বক  বিশেষে এই ব্রণ হওয়ার কারণগত কিছু পার্থক্য রয়েছে। আজকে আলোচনা করবো ত্বকের বিভিন্ন  জায়গায় ব্রণ কেন হয় এবং এর পাশাপাশি আমাদের ব্রণ হলে কি করনীয় সে ব্যাপারে।

আমাদের মুখমণ্ডল এর মেপিং যদি আপনাদের জানা থাকে তাহলে সেই অনুযায়ী মুখমণ্ডল এর কোন জায়গাটিতে ঠিক কি কারণে ব্রণ হয় তা আমরা জেনে নিবো।

কপালে ব্রণ কেন হয়

  • অনেক বেশি হেয়ার প্রোডাক্ট  যেমন হেয়ার স্প্রে হেয়ার স্ট্রেইটনার, হিটার, হাইলি ইফেক্টিভ হেয়ার ট্রিটমেন্ট  রেগুলার ইউজ করলে  অনেক সময়  হেয়ার লাইনের পোরস বা লোমকূপে সেই প্রডাক্ট জমে যায় যাকে পোরস ক্লগ হওয়া বলে।  এবং সেখান থেকে ব্রণের সৃষ্টি হয়।
  • আপনি যদি অত্যাধিক পরিমাণে টুপি বা হেয়ার ক্যাপ ইউজ করে থাকেন সেক্ষেত্রে সেটা বারবার আপনার কপালের সাথে ঘর্ষণ হতে থাকে এবং সেখান থেকে মুখমন্ডলের টেম্পল এ ব্রণের সৃষ্টি হয়।
  • কপালে ব্রণ হওয়ার অন্যতম একটি কারণ হলো স্ট্রেস বা চাপ  এবং প্রচুর পরিমাণে জাঙ্কফুড খাওয়া।
  • ঘুম কম হওয়া।
  • হজমে সমস্যা হওয়া। 

নাকে এবং নাকের চারপাশে ব্রণ হবার কারণ 

  • স্ট্রেস বা চাপ
  • তৈলাক্ত ত্বক
  • ডায়েট এ অনিয়ম 
  • অধিক ব্লাড প্রেসার

দুই ব্র এর মাঝখানে ব্রণ হবার কারণ 

  • ফুড অ্যালার্জি
  • অনেক বেশি প্রসেসড ফুড বা ফাস্ট ফুড খাওয়া
  • অনেকের ব্রস ওয়াক্স করলেও এদিকে ব্রণ হতে পারে।
  • ধূমপান বা এলকোহলের অভ্যাস থাকলে।

গালে ব্রণ হবার কারণ 

  • হজমে সমস্যা থাকলে।
  • মেকাপ ব্রাশে ময়লা থাকলে বা রেগুলার পরিষ্কার  না করা হলে 
  • ধূমপান করলে।
  • ফোনের স্ক্রিনে ময়লা থাকলে 
  • বালিশ ময়লা থাকলে। 

চিন বা জওলাইন এ ব্রণ হবার কারণ 

  • হরমোনাল ইমব্যালেন্স এর কারণে হতে পারে।
  • ডায়েট মেইনটেইন না করলেও হতে পারে।

কানে বা কানের আশেপাশে ব্রণ হবার কারণ 

  • ডিহাইড্রেসন
  • স্ট্রেস বা চাপ
  • ব্যক্টেরিয়ার ইনফেকশন থেকে 
  • হরমোনাল ইমব্যালেন্স এর কারণে হতে পারে
  • মেকাপ প্রডাক্ট রিয়েকশন

ব্রণ কেন হয় আরো কিছু কারণ

ব্রণ কেন হয়

হরমোন

মাসিক চক্র এবং বয়ঃসন্ধিকালে হরমোনের মাত্রাধিক্যের কারণে ব্রণ হয়। বয়ঃসন্ধিকালে, অ্যান্ড্রোজেন বৃদ্ধির কারণে অতিরিক্ত সিবাম তৈরি হয়। গর্ভকালীন সময়েও অ্যান্ড্রোজেন বৃদ্ধির কারণে অতিরিক্ত সিবাম তৈরি হয়। এছাড়াও কিছু হরমোন ব্রণের সাথে সম্পর্কযুক্তঃ টেস্টোস্টেরন, ডিহাইড্রোএপিএন্ডোস্টেরন।

পরবর্তী জীবনে ব্রণ হওয়া অস্বাভাবিক, যদিও ব্রণের মতই আরেক ধরনের উপস্থিতি থাকতে পারে।[অস্পষ্ট] প্রাপ্ত বয়স্ক নারীর ব্রণের পেছনে কারণ হিসেবে গর্ভধারণের মত স্বাভাবিক বিষয় থেকে শুরু করে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম[২২] বা কুশিং সিনড্রোম[২৩] থাকতে পারে।

জেনেটিক

কিছু ব্যক্তির ব্রণের পেছনে জেনেটিক উপাদান যেমন TNF-আলফা, IL-1 আলফা ইত্যাদি দায়ী বলে মনে করা হয়, যা যমজ গবেষণা দ্বারা সমর্থিত। এসব প্রচলিত মেন্ডেলের বংশগতির পোষকের প্যাটার্নকে অনুসরণ করে না।

মানসিক

অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা করলে ব্রণ বাড়ে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব হেলথ দুশ্চিন্তাকে ব্রণ বৃদ্ধিকারক একটি এজেন্ট বলে উল্লেখ করেছে।

সংক্রমণ

Propionibacterium acnes একটি অবায়বিয় (Anerobic) ব্যাক্টেরিয়ার প্রজাতি যা ব্রণের পেছনে অনেকাংশে দায়ী, যদিও শুধুমাত্র P. acnes দ্বারা কলোনী সৃষ্টির পর Staphylococcus aureus কেও দায়ী করা হয়। তারপরেও, P. acnes এর বিশেষ কিছু জাত দীর্ঘমেয়াদি ব্রণের সমস্যার সাথে সম্পর্কযুক্ত। P. acnes এর অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধ দিন দিন বাড়ছে। Demodex নামক পরজীবির দ্বারা সংক্রমণের ফলেও ব্রণ হতে পারে।

সূত্রঃ উইকিপিডিয়া

আমরা জানলাম যে কি কি কারণে আমাদের মুখমণ্ডল এর ত্বকে ব্রণ হচ্ছে। এখন জেনে নিবো আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে কি কি অভ্যাস পরিবর্তন এর মাধ্যমে আমরা ব্রণ এর হাত থেকে বাচতে পারি।

১.ব্রণের প্রধান কারণ এর মধ্যে সবচেয়ে প্রধান যেটি সেটি হলো স্ট্রেস।তাই যত কম স্ট্রেস নেয়া যায়,তত বেশি ভালো থাকবে আপনার স্কিন।

২.যখন তখন মুখমণ্ডল এ হাত দেয়া যাবেনা।এবং নখ দিয়েও চুলকানো যাবেনা।

৩.অনেক বেশি পরিমাণে পানি খেতে হবে এবং বাহিরের খাবার যত বেশি বর্জন করা যাবে ততই ত্বকের পরিবর্তন আপনাদের নিজেদেরই চোখে পড়বে।

৪.এখন বলব গুরুত্বপূর্ণ একটি অভ্যাস সম্পর্কে।সেটা হলো ব্রণ হলে কখনোই সেটায় স্পর্শ করা যাবে না হাত দিয়ে এবং কখনোই পপ-আপ করা যাবে না কারণ আপনি যখন ব্রণ টাকে পপ আপ করার চেষ্টা করছেন তখন ব্রণের ভিতরে যে সিবাম ফ্লয়েড থাকে সেটা এক্সপ্লোশন হয় এবং চারপাশে ছড়িয়ে আরো বেশি ব্রণের সৃষ্টি করে তাই কখনোই ব্রণ স্পর্শ করা যাবে না।

৫.রাত জাগার অভ্যাস না করে নিয়মিত ৭-৮ ঘন্টা  ঘুমানোর অভ্যাস করতে হবে।

৬.দিনে দু’বার এটলিস্ট ফেইস ওয়াস দিয়ে মুখ ধুতে হবে।খুব একটা প্রয়োজন না হলে এর বেশি ব্যবহার না করাই ভালো।

৭. যেহেতু বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে সূর্যের তাপমাত্রা অনেক বেশি তাই খুব বেশি সময় সূর্যের নিচে থাকলে তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি তেল উৎপাদন করে আমাদের মুখমন্ডলে, এবং সেটা আমাদের স্কিনে জমে সেখানে ব্রণের সৃষ্টি করে তাই অবশ্যই একটি ভালো এসপিএফ যুক্ত সানব্লক ইউজ করা উচিত। বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুযায়ী এসপিএফ ফর্টি টু ফিফটি ব্যবহার করা উচিত।

৮.  মুখমণ্ডল ফেইস ওয়াশ দিয়ে পরিষ্কার করার পর অবশ্যই একটা মশ্চারাইজার ইউজ করতে হবে  যেটা কিনা আপনার  ত্বক উপযোগী।

৯. যেকোনো প্রডাক্ট ব্যবহার এর আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করে নিতে হবে অর্থাৎ ফেইস এর জওলাইন এর একটু উপরে ব্যবহার করে তা পরীক্ষা করে নিতে  পারেন।

১০.শারীরিক ব্যায়াম করতে হবে কারণ শারীরিক ব্যায়াম করার ফলে আপনার ব্লাড সার্কুলেশন অনেক বৃদ্ধি পায় যার ফলে ব্রণ হবার সম্ভাবনা কমে যায়।

১১. আপনি যে বালিশ এ ঘুমাচ্ছেন তা পরিষ্কার এবং তৈল মুক্ত রাখতে হবে।নাহয় সেই তেল থেকে ব্যাকটেরিয়ার উৎপাদন হয় এবং তা আপনার ফেইস এ সারারাত প্রবেশের মাধ্যমে নানা ক্ষতের সৃষ্টি করতে পারে।

১২. রেগুলার হোয়াইটহেডস এবং ব্ল্যাকহেডস পরিষ্কার করতে হবে এবং রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে চুলে তেল না দিয়ে গোসলের দুই থেকে ৩ ঘণ্টা আগে দিয়ে তারপর শ্যাম্পু করা যায়।

আরো পড়ুন

Conclusion

আপনারা এই পোস্ট থেকে জানতে পারলেন ব্রণ কেন হয় , ব্রণ হবার কারণ সমূহ এবং ব্রণ হলে আমাদের কি করনীয়। আশা করি অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পেরেছেন। এর পরের পোস্ট আরো গুরুত্বপূর্ণ আমার এক্সপেরিমেন্ট করা তথ্য নিয়ে ব্রণ দূর করার উপায় নিয়ে লিখবো। আপনার মতামত অবশ্যই কমেন্ট বক্সে জানাবেন। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *