ব্লগে পোস্ট করার সঠিক নিয়ম

ব্লগে পোস্ট করার নিয়ম সঠিকভাবে জেনে তারপরে পোস্ট লিখুন। কেননা আর্টিকেল ইজ কিং এটা আমাদের কারোরই অজানা নয়। আজকে আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু ব্লগে পোস্ট করার সঠিক নিয়ম। আপনি যদি সঠিক উপায়ে ব্লগে পোস্ট করেন তাহলে নিশ্চিতভাবে আপনার ব্লগে ভিজিটর পাবেন এবং ভিজিটর ধরে রাখতে পারবেন। আর ব্লগিং করে আয় করতে হলে সঠিক উপায়ে পোস্ট করার কোন বিকল্প নেই।

আমরা সবচেয়ে বেশি যে ভুলটা করে থাকি তা হল ব্লগে পোস্ট করার নিয়ম না জেনেই পোস্ট লিখে থাকি। এজন্য আমরা আমাদের টার্গেটেড ভিজিটর পাই না। এবং এ কারণে আমাদের ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট অনেক বেড়ে যায়, যার ফলাফল র‍্যাংকিং হারানো। আজ এই পোস্ট আপনাদের ব্লগে পোস্ট করার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত বলব। এগুলো যদি ফলো করতে পারেন তাহলে নিশ্চিতভাবে আপনার ব্লগে ভিজিটর বাড়াতে পারবেন।

ব্লগে পোস্ট করার নিয়ম

টাইটেল

ব্লগ পোস্টে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে টাইটেল। ব্লগে পোস্ট লেখার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো একটি সুন্দর, আই ক্যাচি এবং ইউনিক টাইটেল লিখতে হবে। টাইটেল কেন আপনার পোস্টে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়?  কারণ টাইটেল দেখেই একজন ভিজিটর সিদ্ধান্ত নিবে আপনার পোস্টে ক্লিক করবে কি করবেনা। তাহলে বুঝতেই পারছেন টাইটেল এর উপর আপনাকে কতটা গুরুত্ব দিতে হবে। তাহলে চলুন প্রথমেই দেখে নেয়া যাক আপনার টাইটেল টিউনিক কিনা তা কিভাবে বের করবেন?

গুগল এডভান্স সার্চ ব্যবহার করে যাচাই করে নিতে পারবেন আপনার টাইটেল ইউনিক কিনা। এজন্য আপনার টাইটেল এর আগে allintitle: এটি লিখে গুগোলে সার্চ দিতে হবে। যদি দেখেন এর জন্য গুগল আপনার কোন রেজাল্ট দেখাতে পারছে না তাহলে বুঝতে হবে আপনার টাইটেল ইউনিক। নিচের ছবিটি দেখলে আপনি আরো স্পষ্টভাবে বুঝতে পারবেন।

তাহলে আপনার টাইটেল টি ইউনিক কি না তা প্রথমে দেখে নিন। এবার আসুন কিভাবে আপনার ব্লগ পোস্টের টাইটেল টি সুন্দর এবং আই ক্যাচি করে তুলবেন। সুন্দর টাইটেল বলতে আপনার টাইটেলটি অবশ্যই অর্থপূর্ণ হতে হবে। আপনি যে বিষয়ে পোস্ট লিখতে যাচ্ছেন তা কি আপনার টাইটেল দেখে সম্পূর্ণ ধারণা পাওয়া যায়? যদি উত্তর হ্যাঁ হয় তাহলেই আপনার টাইটেলটি সুন্দর হয়েছে।

টাইটেল অবশ্যই আই ক্যাচি হতে হবে। অর্থাৎ টাইটেল টি এমন ভাবে লিখতে হবে যাতে আপনার ভিজিটির টাইটেল দেখে মনে করে পোস্টটি তার অবশ্যই পড়া উচিৎ। এই পোস্টটি ই আপনার ভিজিটরের প্রয়োজন। টাইটেল আই ক্যাচি করতে হলে আপনি যাদের জন্য পোস্ট লিখছেন তারা আসলে কি চায় তা আপনাকে জানতে হবে। তাই আপনি ভালোভাবে আপনার ভিজিটরদের ইন্টারেস্ট রিসার্চ করে নিন।

এবার আসুন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি আপনাকে অবশ্যই মানতে হবে তা হল টাইটেলে আপনার কিওয়ার্ড রাখা। কিওয়ার্ড মানে হল মানুষ যেসব শব্দ বা শব্দগুচ্ছ লিখে কোন কিছু সার্চ করে তা। কিওয়ার্ড রিসার্চ সম্পর্কে আমাদের একটি পরিপূর্ণ টিউটোরিয়াল আছে যা আপনার অবশ্যই দেখে নেয়া উচিৎ। নিচে উদাহরণ স্বরূপ একটি ছবি দিচ্ছি। এগুলো থেকে কিওয়ার্ডের ধারণা নিতে পারেন।

আমি আপনাকে কখনোই রিকমেন্ড করব না যে আপনি ব্লগারে সাইট রান করেন। এই ওয়েবসাইটে বিভিন্ন পোস্ট বলেছি ব্লগারে ফ্রি ওয়েবসাইট খুলে আগে শিখুন। তারপর আপনার আর্নিং শুরু হলে ওয়ার্ডপ্রেসে নিয়ে আসুন আপনার সাইট। ব্লগে পোস্ট করার যে সব নিয়ম সম্পর্কে আমি বলব এগুলো ব্লগারে হোক বা ওয়ার্ডপ্রেসে, আপনাকে এই নিয়ম গুলো মেনে পোস্ট লিখতে হবে।

আপনার ওয়ার্ডপ্রেসের ড্যাসবোর্ডে লগইন করুন এবং রাইট সাইডবার থেকে Post > Add new ক্লিক করুন।

title

Add title অংশে আপনি আপনার ব্লগ পোস্টের টাইটেল লিখুন এবং নিচে ডেসক্রিপশন লিখুন। প্রতিটি ব্লকে প্যারাগ্রাফ লেখার সময় আপনার লেখার বিভিন্ন স্টাইল করে দিতে পারবেন। যেমন বোল্ড, ইটালিক, বুলেট লিস্ট, টেক্সট কালার এবং আরো অনেক রকম অপশন পাবেন। তাছাড়া ইমেজ/ভিডিও আপলোড, ইউটিউব ভিডিও/লিঙ্ক এমবেড, কাস্টম কোড, টেবিল, ডাউনলোড বাটন, জব এপ্লিকেশন, স্লাইড, গ্যালারি, অডিও, সোশ্যাল অপশন সহ আরো অনেক কিছু। অর্থাৎ আপনি যেমন খুশি ঠিক তেমন ভাবেই আপনার ব্লগ পোস্ট সাজিয়ে নিতে পারবেন। প্রতিটি ব্লকের + বাটনে ক্লিক করলেই সব পেয়ে যাবেন।

আমি আশা করছি এই বিষয়গুলো আপনার জানা। যদি এগুলো সম্পর্কে কিছু জানতে চান তাহলে অবশ্যই কমেন্টে জানবেন অথবা আমাদের সাথে যোগাযোগ করবেন। এই পোস্টে আমি এগুলো আলোচনা করবনা। আপনাদের প্রয়োজন হলে পরবর্তী পোস্টে এ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করব। ব্লগে পোস্ট করার নিয়ম বলতে এসইও ফ্রেন্ডলি করে পোস্ট কিভাবে লিখবেন তা নিয়ে আলোচনা করব। কেননা এই বিষয়গুলো জানা আপনার জন্য খুবই জরুরি।

আমি ধরে নিচ্ছি আপনি জানেন আর্টিকেল কিভাবে লিখতে হবে। যদি না জানেন তাহলে অবশ্যই আপনাকে আর্টিকেল লেখার নিয়ম সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। এজন্য আপনি নিচের পোস্টটি পড়ুন। নিচের পোস্ট আমি অত্যন্ত সুন্দরভাবে আর্টিকেল লেখার নিয়ম সম্পর্কে আলোচনা করেছি।

ফিচার ইমেজ

টাইটেলের পরে যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ তা হল ফিচার ইমেজ। আপনার ব্লগ পোস্টের ফিচার ইমেজটি আপলোড করার আগে অবশ্যই সঠিকভাবে অপটিমাইজ করে নিবেন। আপনার ইমেজটি .jpg ফরমেটে রাখবেন। পোস্ট পেইজের সাইজ অনুযায়ী ইমেজের সাইজ ঠিক করে নিবেন। যেমন আমাদের পেইজের জন্য ফিচার ইমেজের সাইজ 1280 X 570 px

ইমেজের সাইজ সঠিক না হলে দেখতে খারাপ লাগবে। ইমেজের কোয়ালিটি ভাল হতে হবে এবং ফাইল সাইজ ১০০kB এর মধ্যে রাখার চেষ্টা করবেন। ইমেজ আপলোড করার আগে কিওয়ার্ড দিয়ে অপটিমাইজ করে নিন। যেমন, আপনার কিওয়ার্ড যদি হয় “ব্লগে পোস্ট করার নিয়ম” তাহলে ইমেজটি রিনেইম করে নিন এইভাবে ব্লগে-পোস্ট-করার-নিয়ম তারপর মাউসের রাইট বাটনে ক্লিক করে properties এ যান। নিচের ছবির মত, ট্যাগ, অথার এবং কপিরাইট এই তিনটি জিনিস সেট করে দিন

তারপর আপনাকে ইমেজ আপলোড করতে হবে। আপলোড করার পর ইমেজের alt text এ কিওয়ার্ড দিতে হবে। যা আপনি ওয়ার্ডপ্রেসে ইমেজ আপলোড করার পর রাইট সাইডবারে দেখতে পাবেন।

Permalink / Url Slug

এটির উপর আপনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। কেননা একবার পোস্ট পাবলিশ করা হয়ে গেলে এটি আর ইডিট করতে পারবেন না। যদিও পারবেন, কিন্তু এটি আপনি কখনোই করবেন না। কারণ আপনার পোস্ট গুগলে ইনডেক্স হয়ে গেলে এটি যদি ইডিট করে পরিবর্তন করেন, তাহলে আগের ইউআরএল টি কিন্তু গুগলে থেকে যাবে। তখন কেউ ক্লিক করলে আপনার সাইটে 404 ইরর পেইজ দেখাবে। যা আপনার সাইটের জন্য খুবই খারাপ।

তাহলে বুঝতেই পারছেন ইউআরএল কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আপনার পোস্টের সব কিছুই পরিবর্তন করতে পারবেন প্রয়োজন অনুযায়ী, কিন্তু এটা পরিবর্তন করা যাবে না। তাই পোস্ট পাবলিশ করার আগে এটি বার বার দেখে নিবেন। ইউআরএল এ আপনার কিওয়ার্ড দিবেন। যদি কিওয়ার্ড বেশি বড় হয় তাহলে কিছু অংশ দিবেন। অবশ্যই যেন অর্থপূর্ণ হয়। নিচের ছবিটি দেখে আরো ক্লিয়ার হয়ে নিন।

ডেসক্রিপশন

আর্টিকেলের ডেসক্রিপশনে আপনার সৃজনশীলতা ফুটিয়ে তুলতে হবে। ডেসক্রিপশন ছোট ছোট প্যারায় ভাগ করে লিখবেন। ১ম প্যারাগ্রাফ টি হবে আপনার ব্লগ পোস্টের ইন্ট্রো। ইন্ট্রোতে অবশ্যই আপনার কিওয়ার্ডটি একবার ব্যবহার করবেন।

এখন পর্যন্ত গুগল র‍্যংকিং ফ্যক্টরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল আর্টিকেলে কিওয়ার্ডের সঠিক ব্যবহার। আপনি যদি পুরো আর্টিকেলে সঠিকভাবে কিওয়ার্ডের ব্যবহার করতে পারেন তাহলে নিশ্চিত ভাবে আপনার পোস্ট গুগলের ফার্স্ট রেজাল্ট পেইজে আপনার পোস্ট র‍্যাংক করবে। আবার যদি অতিমাত্রায় কিওয়ার্ড ব্যবহার করেন তাহলে পেনাল্টি খাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাই খুব সতর্কতার সাথে কিওয়ার্ডের ব্যবহার করতে হবে।

সিমিলার ওয়ার্ড বা সময়ার্থক শব্দ ব্যবহার করুন। আর্টিকেলের শেষে অত্যন্ত সুন্দরভাবে আপনার ব্লগ পোস্টের সারমর্ম লিখে দিন। একটি ব্লগ পোস্টে কিওয়ার্ড কতবার সেইফ্লি ব্যবহার করা যায় তা হল, ১০০০ ওয়ার্ডের একটি পোস্টে সর্বোচ্চ ৩-৪বার কিওয়ার্ড ব্যবহার করুন। এর বেশি করবেন না।

ব্লগে পোস্ট করার নিয়মগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হল মেটা ডেসক্রিপশন। যা সার্চ রেজাল্ট পেইজে আপনার পোস্টের টাইটেলের ঠিক পরেই শর্ট ডেসক্রিপশন আকারে দেখাবে। এতে অবশ্যই আপনার কিওয়ার্ডটি থাকতে হবে। yoast seo প্লাগিনের মেটা ডেসক্রিপশন অংশে এটি লিখে দিন। ইন্ট্রো ব্যবহার করারই সবচেয়ে ভাল প্র্যাকটিস।

এবার আপনার পোস্ট লেখা কমপ্লিট Save draft বাটনে ক্লিক করে পোস্টটি সেভ করুন। তারপর পুরো পোস্ট ভালোভাবে চেক করুন আপনি সবগুলো নিয়ম মেনে আপনার ব্লগ পোস্টটি সাজিয়েছেন কি না। যদি সব ঠিক থাকে তাহলে Publish বাটনে ক্লিক করে পোস্টটি পাবলিশ করে দিন।

Conclusion

ব্লগে পোস্ট করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়মগুলো এখানে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। একটি এসইও ফ্রেন্ডলি পোস্টের যা কিছু থাকা প্রয়োজন সব আমি এই পোস্টে কভার করেছি। ব্লগে পোস্ট করার সময় এই নিয়ম গুলো আপনাকে অবশ্যই মানতে হবে। ফ্রিল্যান্সিং এ কি কি কাজ করা যায় এবং অনলাইনে ইনকামের কমপ্লিট গাইডলাইন আমাদের ওয়েবসাইট থেকে পড়ে নিন। তাছাড়া আমার লেখা ফ্রিল্যান্সিং কিভাবে শিখবো পোস্ট টি আপনার জন্য খুবই উপকারী হবে। আমার পোস্ট সম্পর্কে আপনার মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *