ক্যাডেট কলেজ ভর্তি পরীক্ষা মানসিক প্রস্তুতি

আগামী ২৯শে জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ২০২১ সালের ক্যাডেট কলেজ ভর্তি পরীক্ষা। আর বাকি আছে মাত্র ২৮ দিন। তাই এই শেষ মূহুর্তে প্রয়োজন বিশেষ প্রস্তুতি। কিছু সাধারণ ও সহজ উপায় অনুসরণ করেই তোমার ভিত্তি অন্য সবার চেয়ে মজবুত ও ভালো করতে পারো। আজ তোমাদের ক্যাডেট কলেজ ভর্তির জন্য একটি পরিপূর্ণ গাইডলাইন দিব কিভাবে এই শেষ মূহুর্তের প্রস্তুতি নিবে।

তোমার প্রস্তুতি ভালো আছে, তাই এই সময়গুলোকে অবহেলা করবে- এমনটা চিন্তা করার কোন সুযোগ নেই। কেননা এই ছোট ছোট অলসতাগুলোই পরবর্তী সময়ের আফসোসের কারণ হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে যাদের ক্যডেট কলেজে পড়ার প্রবল আগ্রহ আছে, কিন্তু প্রস্তুতি তেমন ভালো না তাদের জন্যও রয়েছে নির্দেশনা।

রেজিস্ট্রেশন নিয়ে ভাবনা

এখনো অনেকেই দ্বিধাদন্দে আছো, ক্যাডেট কলেজ ভর্তি পরীক্ষা এই বছর দিবে নাকি পরের বছর দিবে, এই বছর রেজিস্ট্রেশন করবে নাকি করবেই না। এমন পরিস্থিতি যদি তোমার সামনে এসে দাঁড়ায়, তবে আরেকটু ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নাও। তুমি যদি মনে কর বাকি দিনগুলো ঠিকমতো পড়াশোনা করে নিজেকে প্রস্তুত করতে পারবে, তবে আজকেই রেজিস্ট্রেশন করে ফেল। আর যদি পরবর্তী বছর আবার পড়াশোনা করে পরীক্ষা দিতে চাও, সেটাও করতে পারো। তবে সবটুকুই নির্ভর করে তোমার উপর, তোমার চেষ্টা এবং ইচ্ছের উপর। আর সবসময় যে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। যে কোন একটি সিদ্ধান্ত নাও এবং সেটাই সঠিক হিসেবে প্রমাণ করো।

আবার এমন কিছু স্টুডেন্টও থাকে যারা প্রস্তুতি নেয় নি বলে ভর্তি পরীক্ষা দিবে না এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ পরের বছরও পরীক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা নেই। আবার এমনও আছে যারা সারা বছর প্রস্তুতি নিয়েও পরীক্ষা দিতে চাচ্ছে না, এই ভেবে- আমার চান্স হবে না, পরীক্ষা দিয়ে কী হবে? তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, এইসব চিন্তা বাদ দাও ও পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনটা এই মূহুর্তেই করে ফেল। বলা তো যায় না, তোমার জন্য ভালো কিছু অপেক্ষা করতেও পারে!

ঠিক করতে হবে দেহঘড়ি

প্রতিদিনই একটি নির্দিষ্ট সময়সূচী অনুযায়ী আমাদের দেহের বিভিন্ন ক্রিয়া-বিক্রিয়া পরিচালিত হয়, যা এই দেহঘড়ির জন্য চলমান। অনেকেই থাকেন যারা এই দেহঘড়ির জন্য চলমান। অনেকেই থাকেন যারা খুব ভোরে সকালের নাস্তা করতে পারেন না। এমনকি কখনো কখনো খুব চেষ্টা করেও পারেন না, এমনকি কখনো কখনো খুব চেষ্টা করলেও সম্ভব হ্যে উঠে না। কি? মিল পাচ্ছো?

এরকম ঘটনাগুলো দেহঘড়ির জন্যই হয়ে থাকে। তাই ক্যাডেট কলেজ ভর্তি পরীক্ষার আগের এই কয়েকদিন শুধু নিয়মিত পড়াশোনা করলেই হবে না, তার সাথে প্রয়োজন সঠিক সময়ে খাওয়া-দাওয়া করা, সঠিক সময়ে বিশ্রাম নেওয়া এবং অন্যান্য সকল কাজগুলো ঠিকঠাক সময় মতো করা।

পাগল ও মাতাল হওয়া যাবে না

হেডিং পড়ে হয়ত ভাবছো এইরকম হেডিং দেওয়ার কারণ কি? তাহলে শোনো, গত কিছুদিন আগে আমার এক বড় ভাই আমাকে বললো, লাবীব, আমরা ছোটবেলায় অনেকেই “Early to bed and early to rise” কবিতাটি পড়েছি; কিন্তু আমরা একটা জিনিস কখনোই পড়িনি-

Late to bed and early to rise,
makes a man pagol and matal.

তাই তোমার পরীক্ষার যদি আর মাত্র এক মাস বাকি থাকে, তবে অবশ্যই ঘুমের সময়সূচী ঠিক করতে হবে। এমনকি যদি সকালে ঘুম থেকে উঠতে না পার, তাহলেও তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়া আবশ্যক। কেননা সবগুলো পরীক্ষাই সকালে হয়, দুপুরে কিংবা রাতে হয় না। আর নিয়মিত তাড়াতাড়ি ঘুমানো ও সকালে উঠার অভ্যাস পরীক্ষার দিন তোমাকে বাড়তি Stamina দিবে। যারা এই বিষয়টি অনুসরণ করে না, তারা পরীক্ষার দিন ঠিকই হারে হারে টের পাবে। দেখো, তুমি যেন তাদের মধ্যে না পড়ে যাও। অন্তত, পরীক্ষার এক সপ্তাহ আগে থেকে এই টিপস টি তোমাকে ফলো করতেই হবে।

কাটিয়ে ওঠো দুর্বলতাগুলো

এতক্ষণ দৈনন্দিন জীবনে কি কি করতে হবে, সেগুলো আলোচনা করলাম। এখন পড়াশোনায় আসা যাক। এখনি খাতা কলম নিয়ে বসো। ঝটপট তোমার পরীক্ষার বিষয়গুলো লিখে ফেলো। এরপর ভালো করে ভাবো তোমার কোন টপিকগুলোতে দুর্বলতা আছে। যদিও ভর্তি পরীক্ষার কোনো নির্দিষ্ট সিলেবাস নেই, এরপরেও এতদিন ধরে পড়াশোনা করতে করতে তোমার অবশ্যই একটা ধারণা হয়ে যাবার কথা কোন কোন টপিক পরীক্ষায় আসতে পারে এবং তার উপর ভিত্তি করেই দুর্বলতাগুলো খুজে বের করো।

এখন একটা নির্দিষ্ট গোল/লক্ষ্য নির্ধারণ করো। যেমনঃ আগামী ১০ দিন আমি ১ ঘন্টা করে ইংরেজি পড়বো এবং এই এই টপিকগুলো আমি শেষ করব। একইসাথে প্রতিদিন ১ঘন্টা করে বাংলা, পদার্থবিজ্ঞান. . . অর্থাৎ তোমার যেগুলো পড়া উচিৎ বলে মনে করো। অথবা আরেকটি প্ল্যান নিতে পার, আগামী প্রতিদিন আমি একটা করে বিষয় পড়বো অর্থাৎ শুক্রবারে বাংলার দুর্বল দিকগুলো পড়বে, শনিবারে ইংরেজি, রবিবারে বিজ্ঞান এবং তুমি যেভাবে রুটিন তৈরি করেছো।

তাহলে দেখবে তোমার পড়াশোনা অনেক এগিয়ে গিয়েছে। আর যদি এই দুর্বল দিক অর্থাৎ কম পারা টপিকের লিস্টটি বেশ বড় হয়, তবে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো আগে বাছাই করে পড়া শুরু করে দাও।

কতক্ষণ করতে হবে পড়াশোনা

পড়াশোনা সবটুকুই সম্পূর্ণভাবে তোমার উপর নির্ভর করে। আমি নির্দিষ্ট কোনো সময় কিংবা ঘন্টা উল্লেখ করবো না। তবে রাতের ঘুম বাদ দিয়ে, স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয় এমন কিছু করে, চোখে সমস্যা হয় কিংবা অতিরিক্ত চাপ নিয়ে ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়াশোনা করা যাবে না। আবার একটানা অনেকক্ষণ পড়াশোনা করাও ঠিক না। সবচেয়ে ভালো হয় যাদি প্রতি ২৫ মিনিট পড়াশোনা করে ৫ মিনিট করে বিরতি নাও।

এই ৫ মিনিট তুমি কি করবে? অবশ্যই মোবাইলের নটিফিকেশন চেক করা যাবে না। এই ৫ মিনিটে তোমার পূর্ববর্তী পড়াগুলো মনে করা ও পরবর্তীতে কি কি পড়বে তা নিয়ে ভাবাই শ্রেয়। আর হ্যাঁ, পড়াশনার ফাঁকে ফাঁকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে ভুলো না যেন।

অবসর সময়

পরীক্ষার আগে সারাদিন শুধুই পড়াশোনা করবে আর কিছুই করবে না এমন মনে করার কোন কারণ নেই। প্রতিদিন নিজের জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় রাখো, সেটা হতে পারে ৩০ মিনিট কিংবা ১ ঘন্টা বা আরো কম বা বেশি। যে সময়টুকু তুমি তোমার নিজের শখ কিংবা ভালো লাগার কাজগুলো করতে পারো। তবে এই সময় মোবাইলে গেম খেলা যাবে না একদমই না। আর কারো যদি কোনো শখ না থাকে কিংবা শখের কাজ করা সম্ভব না হয়, তবে তুমি তোমার বাবা মায়ের সাথে সময় কাটাতে পারো। আর বিকেল বেলা একটু খেলাধুলা করলে কিন্তু মন্দ হয় না। তবে ঘরের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত সময় নিয়ে খেলা যাবে না।

পত্রিকা ও খবর কেন জরুরী?

ক্যাডেট কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় সাধারণ জ্ঞ্যানের কোন নির্দিষ্ট সিলেবাস নেই। তাই এই সমস্যার সহজ সমাধান- প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিট করে খবর শোনা ও সাম্প্রতিক বিষয়গুলো মনে রাখা। মনে রাখতে হবে সাধারণ জ্ঞ্যানে অসাধারণ হতে গিয়ে বাংলা, ইংরেজি কিংবা গণিতের গুরুত্বপূর্ণ নম্বর বা মার্ক বাদ দেয়া যাবে না।

ইচ্ছা আছে কিন্তু প্রস্তুতি ভাল না- কি করবো?

অনেক পরীক্ষার্থীই আছে যাদের ক্যাডেট কলেজে পড়ার প্রবল ইচ্ছা ছিলো, কিন্তু এখন নেই। বিভিন্ন সমস্যা, পরীক্ষায় ক্রমাগত ভাল করতে না পারা, মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে না পারা মূলত নিজেকে ফাঁকি দেওয়ার কারণেই এখন আর সেই স্বপ্ন ও আত্ববিশ্বাস নেই। কিন্তু যদি এখনো ক্যাডেট কলেজে পড়ার স্বপ্ন কখনো কখনো তোমার মনের মাঝে উঁকি দেয়, তবে তোমার উদ্দেশ্যে বলছি, তুমি যেই ক্যাডেট কলেজ ভর্তি পরীক্ষা দিচ্ছো, সেই কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির একজন ছাত্র দিনে মাত্র ২.৫-৩ ঘন্টা পড়াশোনা করে কৃতিত্বের সাথে এইচএসসি পরীক্ষা পাশ করে।

আর তুমি যদি প্রতিদিন ৮ ঘন্টা করে আগামী ১ মাস পড়াশোনা করে চান্স না পাও, তবে সেটা খুবই হতাশাজনক। তাই, আগামী দিনগুলোতে অধ্যাবসায় ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে একজন লড়াকু সৈনিক হিসেবে প্রমাণ করতে পারবে তো?

ক্যাডেট কলেজ ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেবার জন্য পড়াশোনার প্রতি সবচেয়ে বেশি মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।

আর পড়ুনঃ ক্যাডেট কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি -পড়াশোনা গাইডলাইন

সারাদিন পাগলের মত দিকবিদিক শুণ্য হয়ে পড়াশোনা না করে একটু বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিলেই অনেক কিছু বেশি পড়া ও পারা যায়। পরবর্তীতে ক্যাডেট কলেজ ভর্তি পরীক্ষার ভালো প্রস্তুতির জন্য আমাদের কোন কোন অভ্যাসগুলো বাদ দিতে হবে অর্থাৎ দৈনন্দিন জীবনে করে থাকি এমন কোন কাজগুলো করা যাবে না, তার উপর আলোচনা করার চেষ্টা করবো। আর তোমার আজকের ৬টি পয়েন্টের মধ্যে কোনটি সবচেয়ে বেশি ভাল লেগেছে তা অবশ্যই জানবে এবং তোমার কোনো জিজ্ঞাসা থাকলে তা নিয়েও কমেন্ট করতে পারো।


লেখক
আহনাফ লাবীব
শিক্ষার্থী, সিলেট ক্যাডেট কলেজ।

One thought on “ক্যাডেট কলেজ ভর্তি পরীক্ষা মানসিক প্রস্তুতি

  • July 7, 2021 at 2:15 pm
    Permalink

    ভাইয়া, আশা করি ভালো আছেন। আমি পরীক্ষার জন্য কিছুদিন ফেসবুকে ডিক্যাক্টিভেটেট থাকবো, তাই এখানে লিখছি। প্রথমে আপনাকে ধন্যবাদ জানাতে চাই কারণ আপনার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। এর জন্য আমি আপনার কাছে কৃতজ্ঞ। এবং আশা করি আপনি গুগল এডসেন্স এর ভয়াবহতা এবং এটা যে হারাম বুঝতে পারবেন। ওয়েবসাইটে শুধুমাত্র গুগল অ্যাডসেন্স থেকে নয়, স্পন্সর নিতে পারেন। পাশাপাশি আপনি যে ডিজিটাল এজেন্সি করছেন, সেখানে ব্যবসা সফল করতে ওয়েবসাইটে ব্লগ আপনাকে সাহায্য করবে বলে আশা করি। তাই গুগল এডসেন্স মুখ্য বিষয় নয়, যদি আপনি আপনার ওয়েবসাইটে এই হারানো জিনিসটি বন্ধ করে দেন, তাহলে আমাকে নক দিয়েন আমি আবার লেখার চেষ্টা করব।

    নোটখাতার সকল ধরনের অ্যানালিটিকস থেকে আমাকে সরিয়ে দিলে ভালো হয়। এবং অবশ্যই আমার ক্যাডেট কলেজ ও বৃত্তাকার অর্থনীতি সম্পর্কিত আর্টিকেলগুলো এখান থেকে ডিলিট করে দিতে হবে। বাকি দুটো আপনি রাখতে পারেন, কোন সমস্যা নেই। আপনি কিন্তু আমার কাজের জন্য কোন ধরনের অর্থ দেননি, তাই আইনগতভাবে আপনি এগুলো আপনার ওয়েবসাইটে রাখতে পারেন না। পাশাপাশি আপনার সাইটে যেন কোনো ক্ষতি না হয়, সে জন্য প্রথমে আপনি সবগুলো লেখা ক্লিয়ার করে দিতে পারেন আর্টিকেলটি ডিলিট না করে। পরবর্তীতে, গুগোল ক্রল করে পেজগুলোকে সার্চ ইঞ্জিনের ফলাফলে অনেক নিচে পাঠিয়ে দিবে যেখানে কোন সময় কোন ভিজিটর যায় না, তখন আপনি আর্টিকেল গুলো ডিলিট করে দিতে পারেন। আশাকরি আগামী তিন দিনের মধ্যে আর্টিকেলগুলো ডিলিট করে দিবেন , বৃত্তাকার অর্থনীতি ও ক্যাডেট কলেজ সম্পর্কিত আর্টিকেলটি ডিলিট করে দিবেন।

    যাইহোক, আপনার সাথে কাজ করার মুহূর্ত গুলো ভাল ছিল এবং আমি চাই না কোন কারণে আমাদের সম্পর্ক নষ্ট হোক। তাই আপনি স্বেচ্ছায় আমার তিনটি আর্টিকেল ডিলিট করে দিলে খুবই ভাল হয় ও বাকিগুলো রাখতে পারেন কিন্তু আমার নাম মুছে দিতে হবে। আমার আর্টিকেল থেকে যে আয় হয়েছে সেটি ইসলামিক কাজে সোয়াবের উদ্দেশ্য ছাড়া মুক্তির আশায় দান করে দিবেন বলে আশা করি।

    ভালো থাকবেন ভাইয়া, আর হ্যাঁ আমি এখনো আপনার ওয়েবসাইটে একজন নিয়মিত ভিজিটর ও আমি এডসেন্স ব্লক এক্সটেনশন ব্যবহার করি।

    শুভকামনা রইল ভাইয়া।

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *