ই কমার্স ব্যবসা শুরুর গাইডলাইন

ই কমার্স ব্যবসা শুরুর গাইডলাইন সম্পর্কে যারা আমাদের কাছে জানতে চেয়েছেন, তাদের জন্য আজকের এই পোস্ট।

বন্ধুরা আশা করি সবাই ভালো আছেন। আমার আগের পোস্টে আপনার জেনেছেন ই কমার্স ব্যবসা কি এবং এর সুবিধা সম্পর্কে। আজকে আমি আপনাদের সাথে বলবো ই কমার্স ব্যবসা যারা শুরু করতে চাচ্ছেন তারা প্রথম পর্যায়ে যেসব গাইডলাইন অনুসরণ করে এগোবেন সেই সেই বিষয়ের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে। 

আপনার কি মাথায় ই-কমার্স ব্যবসা কিভাবে শুরু করবেন এবং কেন করবেন এই বিষয়গুলো ঘুরপাক খেতে থাকে? আপনি যে ব্যবসা ই করুন না কেন প্রতিটা ব্যবসার ক্ষেত্রে একটি কথা থাকে সেটি হল রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট। হ্যাঁ এই কথাটা সত্য একজন উদ্যোক্তা ব্যবসায়ীর জীবনে যেমন সফলতার  গল্প যেমন রয়েছে তেমনি একজন উদ্যোক্তার জীবনে অসফল  হওয়ার গল্পও রয়েছে। 

কিন্তু আপনি যদি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ব্যবসা শুরুর আগে ভালোভাবে করতে না পারেন এবং ব্যবসা শুরু করার পরেও ব্যবসা চলাকালীন সময়ে আপনি সঠিকভাবে যদি প্রয়োগ না করতে পারেন তাহলে আপনি কখনোই ব্যবসায় সফল হতে পারবেন না। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক ই-কমার্স ব্যবসার শুরুর গাইডলাইনঃ

ই কমার্স ব্যবসা শুরুর গাইডলাইন

মানসিক প্রস্তুতি 

আপনি ব্যাবসায় করুন বা অন্য যে কোনো কাজই করুন আপনার মানসিক প্রস্তুতি টা সবার আগে শক্ত করতে হবে। কেননা আপনি ব্যবসা বা যেকোনো কাজ করুন না কেন আপনার এই সমস্ত কাজের মধ্যে হাজার ধরনের বাধা বিপত্তি আসতে পারে এজন্য আপনাকে মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। তাই কোনো বড় কাজে লাগতে হলে অবশ্যই মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে নিতে হবে সেই কাজের জন্য।

নামকরণ 

ব্যবসায় সফলতা পেতে হলে আপনার ই-কমার্স ব্যবসার নামকরণ টা অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যাপার। আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম এমন হতে হবে যাতে মানুষ খুব সহজেই আপনার ব্যবসাটি খুঁজে পায়। এই জন্য খুবই সুন্দর ইউনিক এবং সহজ একটি নাম দিতে হবে আপনার ব্যবসার। যাতে মানুষ সেটা মনে রাখতে পারে। 

নাম সিলেক্ট করার সময় ডোমেইনটি ফাঁকা আছে কিনা অবশ্যই আপনাকে খুঁজে নিতে হবে এবং সেই নামটি যদি ফাঁকা না থাকে তাহলে ওই নামের সাথে সামঞ্জস্য রেখে অন্য একটি ইউনিক নাম খুঁজে নিতে হবে। নামটি অবশ্যই আপনার প্রোডাক্টের সাথে সামঞ্জস্য রেখে রাখতে হবে এবং আপনার নামটি যত ছোট হবে ততই আপনার ব্যবসার জন্য এটি ভালো হবে। 

আইনি কিছু কার্যাবলী 

আপনার ই-কমার্স ব্যবসার জন্য অবশ্যই ট্রেড লাইসেন্স এবং ব্যবসায়িক বৈধতা সার্টিফিকেট লাগবে। অনেক কাজের ক্ষেত্রে আপনার এটা লাগবে যেমন ধরুন আপনি অনলাইনে পেমেন্ট নিতে যাবেন তার জন্য এটা লাগবে। তা ছাড়াও আরো অনেক কাজের ক্ষেত্রে আপনার ব্যবসার প্রমাণ দিতে এসব কাগজপত্রগুলো অবশ্যই লাগবে। 

প্রোডাক্ট সিলেক্ট করা 

আপনাকে ই কমার্স ব্যবসায় সফল হতে হলে সঠিক  প্রোডাক্ট নির্বাচন করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। 

তাই আপনাকে অবশ্যই কাস্টমারদের চাহিদা এবং প্রোডাক্ট এর সহজলভ্যতা দিক বিবেচনা করে প্রোডাক্ট সিলেক্ট করা উচিত। 

বর্তমান বিশ্বে অনেক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান রয়েছে তাই আপনার প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা অনেক কঠিন হবে। আর এজন্য আপনাকে এমন কিছু প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ শুরু করতে হবে যাতে মানুষ শুরুতেই প্রোডাক্ট কিনতে আগ্রহী হয়। 

সাধারণত প্রোডাক্টের অনেক ক্যাটাগরি থাকে সেখান থেকে আপনি যেকোনো একটি ক্যাটাগরি সিলেক্ট করুন। প্রথমদিকেই আপনি অনেক কয়েকটি ক্যাটাগরি নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে যাবেন না তাহলে আপনি এই ক্ষেত্রে আপনার কাস্টমারদের আস্থা হারিয়ে ফেলবেন। 

তাই এই ক্ষেত্রে আপনাকে খুবই ভালভাবে রিসার্চ করতে হবে যে কোন প্রোডাক্টের সাপ্লাই অনেক কম এবং চাহিদা অনেক বেশি আপনাকে সেই সমস্ত প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ শুরু করতে হবে।

প্রোডাক্ট সোর্স

আপনি কোন ধরনের প্রোডাক্ট সিলেক্ট করছেন সেটার উপর ভিত্তি করে আপনার এবার প্রোডাক্ট এর সোর্স খুঁজতে হবে। আর সাধারনত এর জন্য আপনাকে সবথেকে যে বিষয়টাতে বেশি খেয়াল রাখতে হবে সেটি হচ্ছে প্রোডাক্ট এর দাম। 

কেননা আপনি যত কম খরচে আপনার প্রোডাক্ট গুলো সংগ্রহ করতে পারবেন আপনি তত বেশি দামে প্রোডাক্ট বেচতে পারবেন। আপনাকে যদি প্রতিযোগিতাপূর্ণ বিশ্বের উন্নত সব ই কমার্স প্রতিষ্ঠান সাথে তালে তাল মিলিয়ে টিকে থাকতে হয় তাহলে অবশ্যই প্রোডাক্ট সংগ্রহের বিষয়টাতে বেশি মনোযোগ দিতে হবে। 

ডেলিভারি 

সঠিক সময়ে খাবার ডেলিভারি হলে কাস্টমারের মনজয় আপনারা খুব সহজেই করতে পারবেন। কাস্টমার যেন খুব দ্রুত অক্ষত অসুন্দর প্যাকেজটি পায় সেদিকে আপনাদের নজরটা সবার আগে দিতে হবে। আপনারা যদি এই কাজটাতে ব্যর্থ হন তাহলে রিটার্ন কাস্টমার কোন সময়ই পাবেন না এবং নতুন কাস্টমার যারা রয়েছে তাদের সংখ্যাও আস্তে আস্তে কমতে থাকবে। 

আর সাধারনত এই ক্ষেত্রেও আপনাকে দেখতে হবে যেন সর্বনিম্ন খরচে উন্নত এবং ভালো সার্ভিস তাদের দেওয়া যায়। আর এর জন্য আপনি কুরিয়ার সার্ভিস এর শরনাপন্ন হতে পারেন এমন অনেক কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা পণ্য ডেলিভারি করে থাকে। 

আর সাধারনত এটার সবচেয়ে বড় একটি সুবিধা হল অর্ডার ট্রেকিং। এটির মাধ্যমে কাস্টমার তাদের পণ্যের নির্দিষ্ট লোকেশন সম্পর্কে জানতে পারে এবং নিশ্চিন্ত থাকে। তবে অবশ্যই আপনাকে দেখে শুনে বা বুঝেশুনে কুরিয়ার নির্বাচন করতে হবে।

 কুরিয়ার সার্ভিস যদি সঠিক টাইমে খাবার ডেলিভারি করতে না পারে তাহলে কিন্তু এর প্রভাব পড়বে আপনার ব্যবসার উপরে। তাই যারা সাধারণত ভালো সার্ভিস দিয়ে থাকে তাদের কাছ থেকে সার্ভিস নিতে হবে। 

পেমেন্ট সিস্টেম 

আপনার প্রোডাক্ট যখন কাস্টমাররা কিনবে তখন কাস্টমার কোন মাধ্যমে পেমেন্ট করবে সেটার ব্যবস্থা আপনাকে করে দিতে হবে। বর্তমানে অনেক অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম রয়েছে যেমন বিকাশ, রকেট, নগদ এবং ব্যাংক সহ আরো অনেক সিস্টেম।

এদের মধ্য থেকে আপনাকে একাধিক অপশন সিলেক্ট করতে হবে যেটার মাধ্যমে কাস্টমার খুব সহজে আপনার ওয়েবসাইট থেকে পণ্য কেনার মাধ্যমে পেমেন্ট করতে পারে। 

অনলাইন মার্কেটিং 

অনলাইন মার্কেটিং বলতে এখানে বুঝানো হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া এবং ওয়েবসাইট খোলার পরে গুগল রেঙ্ক। আপনি যখন প্রথম পর্যায়ে ব্যবসা করবেন তখন আপনার ওয়েবসাইট না থাকলেও চলবে তবে অবশ্যই আপনার সোশ্যাল মিডিয়া থাকতে হবে। যেমন ধরুন ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম ইউটিউব সহ অনেক ধরনের অ্যাকাউন্ট আপনার থাকতে হবে। 

কিন্তু আপনি যদি ব্যবসাটি বাংলাদেশ কেন্দ্রিক করতে চান তাহলে অবশ্যই একটি ফেসবুক পেজ এবং একটি ইউটিউব চ্যানেল আপনার থাকা জরুরি। কেননা বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বেশিরভাগ মানুষই ফেসবুক এবং ইউটিউব ব্যবহার করে থাকেন। 

আপনি ই-কমার্সের নামে একটি ফেসবুক পেজ খুলে ফেলুন এবং আপনার প্রোডাক্টগুলো সে ফেসবুক পেজে নিয়মিত আপলোড করতে থাকুন। তারপর আপনি নিয়মিত এর কিছু ভিডিও বানাতে থাকুন এবং ফেসবুক পেজ এবং ইউটিউব চ্যানেলে সেগুলো আপলোড করতে থাকুন। তারপর আপনি চাইলে আপনার ফেসবুক পেজের ভিডিও বা আপনার ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও গুলো খুব তাড়াতাড়ি মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য সেগুলো বুষ্টও করাতে পারেন। 

নিচের আর্টিকেল গুলো আপনার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তবে এই ক্ষেত্রে একটা কথা না বললেই নয়, সেটা হচ্ছে শুধু বুষ্ট করালে হবে না কোয়ালিটি সম্পন্ন বুস্ট করাতে। এর জন্য আপনাকে সুন্দর করে ব্যানার ডিজাইন করতে হবে, সুন্দর করে কনটেন্ট লিখতে হবে এবং আপনার টার্গেট অডিয়েন্স রিসার্চ করে বের করে ফেলতে হবে। 

তবে ব্যবসার পাশাপাশি এসব কাজ করা খুব ঝামেলার মনে হতে পারে সেজন্য আপনি এসব কাজগুলো একজন প্রোভাইডার এর নিকট হস্তান্তর করতে পারেন সেই এসবগুলো দেখাশোনা করবে। আরেকটা বিষয় সেটা হচ্ছে আপনি যে ধরনের কনটেন্ট লিখুন না কেন আপনি সব সময় চাইবেন যাতে আপনার কনটেন্ট টা গুগোল এ রেংক করে থাকে। কেননা গুগলের সার্চ রেজাল্টের প্রথম দিকে আপনার ওয়েবসাইট না থাকলে আপনি টার্গেট অডিয়েন্স সার্চ ইঞ্জিন থেকে কোন ভাবে পাবেন না। 

আপনাকে টিম বিল্ড করতে হবে 

ব্যবসা যখন আপনি প্রথম শুরু করবেন তখন আপনার কাস্টমার কিন্তু কম থাকবে তখন আপনি নিজে একা একাই সে কাজগুলো সব করতে পারবেন। কিন্তু আপনার ব্যবসার পরিধি বাড়ার সাথে সাথে আপনার কাস্টমার আরো অনেক বেড়ে যাবে যখন আর আপনার একার পক্ষে এসব কাজগুলো করা সম্ভব হবে না। 

আর এজন্য আপনাকে অবশ্যই ভাল একটি টিম বিল্ড করতে হবে। কেননা আপনি একা কাজ করে যতদূর না যেতে পারবেন তার চেয়ে বেশি এগোতে পারবেন একটি সফল টিম বিল্ডের মাধ্যমে। আর এজন্য আপনি বিশ্বস্ত সব সহযোদ্ধাদের খুঁজে তাদেরকে আপনার টিম মেম্বার বানিয়ে নিন। 

পরিশেষে, বর্তমানে ই-কমার্স ব্যবসার পরিধি দিন দিন বেড়েই চলেছে। প্রতিযোগিতার এই বিশ্বে আপনাকে যদি ই-কমার্স ব্যবসা সফল হতে হয় তাহলে অবশ্যই আপনার ব্যবসাকে সবসময় আপডেট রাখতে হবে। আর আমি আজকের এই আর্টিকেলের আপনাদের সাথে আলোচনা করতে চেয়েছি ই  কমার্স ব্যবসার শুরুতে কিছু গাইডলাইন সম্পর্কে। 

আমাদের আর্টিকেলটি যারা মনোযোগ সহকারে পড়েছেন তারা অবশ্যই বুঝতে পেরেছেন ই-কমার্স ব্যবসার শুরুর কিছু গাইডলাইন সম্পর্কে। যারা বুঝতে পারেননি তারা অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *