চুল পড়া বন্ধ ও ঘন করার উপায়

নারী কিংবা পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে চুলের ভূমিকা অতুলনীয়। আমরা কমবেশি সবাই বিশ্বাস করি যে সৃষ্টিকর্তা আমাদের যতগুলো এলিমেন্ট দিয়ে বানিয়েছেন প্রতিটি এলিমেন্টই আমাদের সৌন্দর্য বর্ধনে অনন্য ভূমিকা পালন করে।

নানা কারণে আমাদের সুন্দর চুলের সমস্যা দেখা দিতে পারে, চুলের নানা সমস্যা এবং তার কারণ নিয়ে আমাদের অনেকগুলো ব্লগ অলরেডি আছে। আজকের পোস্টে চুল পড়া বন্ধ ও ঘন করার উপায় সম্পর্কে কমপ্লিট ঘরোয়া টিপস দিব।

চুল যেমন আমাদের সৌন্দর্য বর্ধনের সহায়তা করে তেমনি এই চুল মেনটেনেন্স এর জন্য আমাদের অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। কারণ শহর কিংবা গ্রাম আমরা সবাই প্রাত্যহিক জীবনে অনেক ব্যস্ত থাকার কারণে আমাদের চুলের যত্ন সঠিকভাবে করা হয় না। আর দেখা যায় সময়ের অভাবের কারণে আমরা পার্লার কিংবা স্যালন এ যেয়ে অনেক টাকা খরচ করতে হয় চুলের মেনটেনেন্স এর জন্য। এবং অনেক সময় নানা কেমিক্যাল ব্যবহারের ফলে আমাদের চুলে অনেক সাইডইফেক্ট দেখা দেয়।

তাই চুলের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার অতুলনীয়। আমার এক্সপেরিমেন্ট থেকে পাওয়া চুল পড়া বন্ধ ও ঘন করার উপায় গুলো জানলে আপনি সব সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। হয়তো  প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের ফলাফল পেতে সময় বেশি লাগতে পারে কিন্তু এর ফলাফল দীর্ঘস্থায়ীভাবে কার্যকর হয়। চলুন জেনে আসা যাক প্রাকৃতিক সেইসব উপাদান সমূহ এবং তাদের ব্যবহার বিধি সম্পর্কে। 

পরীক্ষিতভাবে চুল পড়া বন্ধ ও ঘন করার উপায়

চুল পড়া বন্ধ ও ঘন করার উপায় বের করার জন্য আমি এক্সপেরিমেন্ট করে বেশ কয়েকটি হেয়ার প্যাক তৈরি করেছি। এগুলো আমি নিজে ব্যবহার করে অনেক ভালো ফলাফল পেয়েছি। আমার পারা-প্রতিবেশী, বান্ধবী এবং আত্মীয়স্বজন যাদের কে আমি এই টিপস দিয়েছি, তারা সবাই ভাল ফলাফল পেয়েছে। এখন আপনাদের কাছে শেয়ার করব এই হেয়ার প্যাক গুলো বানানোর নিয়ম এবং ব্যবহার বিধি। এগুলো ব্যবহারের উপকারিতা ও জানতে পারবেন। চুল পড়া রোধে হেয়ার প্যাক খুবই কার্যকরি এবং এগুলো চুল ঘন করার প্রাকৃতিক উপায়।

চুলের যত্নে হেয়ার প্যাক 

১.

আমরা সবাই জানি চুলের যত্নে হেয়ার প্যাক এর কথা যখন আসে তখন প্রথমেই যে উপাদান টি সবচেয়ে কার্যকর মনেহয় তা হলো মেথি। এবং আমাদের প্রথম হেয়ার প্যাক এর প্রথম উপাদানটি হলো মেথি। মেথিতে রয়েছে হাই প্রোটিন এবং নিকোটিনিক এসিড যা আমাদের চুল পড়া বন্ধ ও ঘন করার উপায় হিসেবে খুবই কার্যকরি। তাছাড়া চুলের খুশকি দূর করতে এটি সহায়তা করে।

চুলের যত্নে নারিকেল তেলের উপকারের কথা তো অজানা নয় কারো কাছেই। তাই আমাদের দ্বিতীয় উপকরণ হলো নারিকেল তেল। এটি আমাদের চুলের রুক্ষতা দূর করে চুল মসৃণ ভাব এনে দেয়। চুলের গোড়া মজবুত করে এবং চুল লম্বা করতেও সহায়তা করে। 

তৃতীয় উপাদান টি হল ক্যাস্টর অয়েল যা আমাদের হেয়ার গ্রোথ কে প্রমোট করে চুল ঘন করতে সহায়তা করে এবং চুলের খুশকি দূর করে চুল লম্বা করতে সহায়তা করে।

চতুর্থ উপাদানটি হলো পেঁয়াজ। পেঁয়াজ এ রয়েছে  সালফার যা হেয়ার ফলিকল কে রিজেনারেট করে, অর্থাৎ চুল ঘন করতে সহায়তা করে। এবং যাদের অল্পতে চুল ভেঙে যায়, খুব অল্প বয়সে চুল পেকে সাদা হয়ে যাচ্ছে তাদের জন্য পেঁয়াজের রস অনেক উপকারী এবং চুলের খুশকি থাকলে সেটাও পেঁয়াজের রস রিমুভ করে, চুলের ব্লাড সার্কুলেশন বাড়িয়ে চুলকে ঘন করতে সহায়তা করে।

হেয়ার প্যাক বানানোর নিয়ম

হেয়ার প্যাক ফর হেয়ার গ্রোথ এই ঘরোয়া হেয়ার প্যাক টি আপনি খুব সহজেই বানিয়ে ফেলতে পারবেন নিচের প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। এটিকে আপনি হেয়ার ট্রিটমেন্ট অয়েল ও বলতে পারেন। চুল পড়া রোধে হেয়ার প্যাক টি খুবই কার্যকরি। ঘরোয়া হেয়ার প্যাক বানানোর নিয়ম গুলো হলো-

  1. ৩ টেবিল চামচ মেথি ভালোভাবে গুঁড়ো করে নিন। (চুল ছোট কিংবা বড় এর উপর ভিত্তি করে কমবেশি হতে পারে)
  2. একটি মাঝারি সাইজের পেঁয়াজ নিয়ে তা ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন।
  3. এর সাথে মিক্স করুন নারিকেল তেল ২ টেবিল চামচ।
  4. এবং সাথে মিক্স করে নিন  একটা  টেবিল চামচ  ক্যাস্টর অয়েল।

ব্যবহারবিধিঃ

এখন আমরা জানবো হেয়ার প্যাক লাগানোর নিয়ম । সবগুলো উপাদান ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এরপর আস্তে আস্তে চুলের গোড়া থেকে নিচ পর্যন্ত সেকশন বাই সেকশন করে লাগিয়ে নিন। ১.৫-২ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। এরপর পানি দিয়ে চুল ধুয়ে, শ্যাম্পু করে নিন। ভালো ফলাফলের জন্য এই হেয়ার প্যাক টি কমপক্ষে ২- ৩ বার ব্যবহার করুন। যাদের পেয়াজের গন্ধ সহ্য করতে কষ্ট হয় তারা পেয়াজ ব্যবহার না করেই বাকি উপাদান গুলো দিয়ে এই হেয়ার প্যাক টি বানাতে পারেন।

উপকারিতাঃ

  • চুলের গোড়া মজবুত করবে
  • চুল ফাটা বা চুল ভাঙ্গা রোধ করে চুলকে মজবুত করে
  • চুল লম্বা করতে সহায়তা করবে 
  • খুশকি দূর করতে সহায়তা করে

২.

হেয়ার প্যাক টি বানানোর জন্য আমাদের প্রয়োজন হবে অ্যালোভেরা, মেথির গুঁড়ো, পেয়াজ, নারিকেল তেল এবং ক্যাস্টর অয়েল। এই প্যাক এ অ্যালোভেরার বদলে চাইলে আপনারা ডিম ও ব্যবহার করতে পারেন। তখন এটিকে আবার কেউ ডিমের হেয়ার প্যাক ও বলে।

অ্যালোভেরা রয়েছে ভিটামিন সি যা আমাদের চুলের গোড়া মজবুত করে এবং চুল পড়া কমায়।

হেয়ার প্যাক-২ বানানোর নিয়ম

দুই থেকে তিনটি অ্যালোভেরা কেটে তা ভালোমতো ধুয়ে নিন। তারপর সেই অ্যালোভেরা থেকে জেল বের করে নিন এবং তা ভালোভাবে ব্লেন্ড করুন। বাজারের তৈরি অ্যালোভেরা হলে তা ৪ থেকে ৫ চামচ পর্যন্ত  ব্যবহার করুন।

৩-৪ টেবিল চামচ মেথির গুঁড়া নিয়ে তার সাথে একটি  মাঝারি সাইজের পেঁয়াজ ব্লেন্ড করে মিক্স করুন। সবগুলো মিশ্রণ একসাথে মিশানোর পর তাতে ২ টেবিল চামচ নারিকেল তেল এবং ১ টেবিল চামচ ক্যাস্টর অয়েল যোগ করে ভালোভাবে নেড়ে নিন। সবচেয়ে ভালো হয় সবগুলো মিশ্রন একসাথে ব্লেন্ডারে দিয়ে তার ঘন একটা পেস্ট করে ফেললে। 

 ব্যবহারবিধিঃ

পেস্টটি তৈরি হয়ে গেলে তা আস্তে আস্তে আপনার পুরো স্কাল্পে এবং আপনার চুল এ ব্যবহার করুন।

এরপর দু ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার করে নিন। ভালো ফলাফলের জন্য পেস্ট টি মাসে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করুন।

 উপকারিতাঃ

  • চুলে ফাংগাল একনি জাতীয় কিছু থাকলে তা দূর করে
  • চুলের গোড়া মজবুত করে এবং নতুন চুল গজাতে সহায়তা করে
  • চুল ন্যাচারালি অনেক সাইন করে তোলে
  • অ্যালোভেরা প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে।

চুলের যত্নে চালের পানি

চাল আমাদের প্রধান খাদ্য। তাই এই হেয়ার স্প্রে টি ব্যবহার করা সবার জন্যই হবে অনেক সহজ। চালে রয়েছে  অ্যামিনো এসিড যা আমাদের চুল পড়া বন্ধ করে নতুন চুল গজাতে সহায়তা করে। এতে আরও রয়েছে ভিটামিন বি এবং ভিটামিন সি যেটা আমাদের চুলকে শক্ত করে চুল পড়া কমিয়ে দেয়।

বানানোর প্রক্রিয়াঃ

চালের পানির ব্যবহার করার জন্য প্রথমেই আপনার এক কাপ পরিমাণ চাল লাগবে। চাল গুলোকে দু-তিনবার  ধোয়ার পর  যখন চালটা পরিষ্কার হয়ে যাবে  তখন এতে প্রায় আধা লিটার পানি যোগ করুন। চালটা ভালোভাবে কোচলে নিন। এই পানিটা একটা পাত্রে স্টোর করুন এবং তাতে এক মুঠো পরিমাণ চাল ঢেলে দিন। আর বাকি চাল গুলো আপনারা চাইলে রান্নার জন্য ব্যবহার করতে পারেন।

মিশ্রণ টি ২৪ ঘন্টার জন্য ঢেকে রেখে দিন। এতে করে চালটা ফার্মান্টেড হবে। এরপর চাল থেকে পানি আলাদা করে তা একটি পরিষ্কার স্প্রে বোতলে স্টোর করুন। তৈরি হয়ে গেল আপনার চুলের জন্য হেয়ার স্প্রে। ব্যবহারের পরও যদি আপনার চালের পানি অনেকটাই থেকে যায় সেক্ষেত্রে আপনি তা দুই থেকে তিন দিনের জন্য ফ্রিজে স্টোর করে রাখতে পারেন এবং ব্যবহার করতে পারেন।

 ব্যবহারবিধিঃ

এই স্প্রে ব্যবহারের সময় চুলগুলো সেকশন বাই সেকশন করে স্প্রে করে মাসাজ করতে থাকুন। ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের জন্য শাওয়ার ক্যাপ বেঁধে রেখে দিন। ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার দিয়ে চুল টা ধুয়ে ফেলুন। এটি আপনি প্রতি সপ্তাহে যতবার চুল  শ্যাম্পু কন্ডিশনার করবেন এর আগে ব্যবহার করতে পারেন। এবং চাল ধোয়া পানির উপকারিতা আপনি প্রথম ওয়াশ থেকেই দেখতে পারবেন।

চাল ধোয়া পানির উপকারিতা

  • চুল পড়া কমায়
  • নতুন চুল গজাতে সহায়তা করে
  • চুলকে অনেক মসৃণ এবং স্ট্রেট করে তোলে

তিসির পানি বা ফ্ল্যাক্স সিড ওয়াটারঃ

ফ্লাক্স সিডস এ রয়েছে প্রোটিন, ওমেগা ৩ এসিড,  ফাইবার এবং অ্যান্টি অক্সিজেন যা চুল ঝরা কমাতে সহায়তা করে।

বানানোর প্রক্রিয়াঃ

এই ফ্ল্যাক্স সিড ওয়াটার টি বানানোর জন্য  প্রথমেই দরকার হবে তিন থেকে পাঁচ টেবিল চামচ ফ্ল্যাক্স সিড বা তিসির বীজ।

একটি পরিষ্কার পাত্রে পরিমাণমতো পানি নিয়ে তাতে ফ্লাক্স সিডগুলো দিয়ে দিন এবং তা গরম হয়ে আঠালো ভাব আসা পর্যন্ত গরম করতে থাকুন। মিশ্রণটি খুব বেশি পাতলা বা খুব বেশি আঠালো করবেন না।মিশ্রণটি ঠাণ্ডা হবার জন্য অপেক্ষা করুন। ঠান্ডা হয়ে গেলে পানিটুকু ছেঁকে আলাদা করে নিন। প্রয়োজনবোধে এই মিশ্রণটি সাথে এসেন্সিয়াল অয়েল বা এলমন্ড অয়েল ব্যবহার করতে পারেন।

ব্যবহারবিধিঃ

মিশ্রণটি থেকে পানি আলাদা করার পর তা আস্তে আস্তে আপনার পুরো চুলে তা মাসাজ করতে করতে ব্যবহার করুন। এবং এক ঘন্টার জন্য অপেক্ষা করুন।এবং পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

এভাবে এই মিশ্রণটি একটানা ৭ দিন ব্যবহার করতে হবে। এবং ঠিক সাত দিন পর নরমাল শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার করে নিন।

উপকারিতাঃ

  • চুল ঝরা কমাবে
  • চুল ঘন করবে
  • চুল ন্যাচারালি স্ট্রেইট করবে
  • চুলে সাইন এনে দিবে

উপরে দেওয়া হেয়ার প্যাক গুলো চুল পড়া বন্ধ ও ঘন করার উপায় হিসেবে খুবই কার্যকরি। এছাড়াও কিছু কিছু রেগুলার অভ্যাস আছে যা আপনাদের অনুসরণ করা উচিত। সেগুলো হলোঃ

  • আমরা সবাই জানি যে আমাদের রেগুলার খাদ্যাভাসের ওপর আমাদের শরীরের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গের ঠিক থাকা অনেকটাই নির্ভর করে। তাই অবশ্যই অনেক বেশি পরিমাণে পানি পান করবেন এবং জাঙ্কফুড বা  তৈলাক্ত খাবার বর্জন করবেন। আমি জানি হঠাৎ করেই খাদ্যাভাস পরিবর্তন করা কঠিন তাই ধীরে ধীরে এরকম তৈলাক্ত খাবার বর্জনের চেষ্টা করতে হবে। আমরা যখন আমাদের খাওয়ার অভ্যাস ঠিক করে ফেলব আমাদের শারীরিক  সমস্যা অনায়াসেই দূর হতে থাকবে এবং আমাদের সৌন্দর্যবর্ধন করতে তা অনেক বেশি সহায়তা করবে।
  • ভিজা চুল নিয়ে কখনো ঘুমোতে যাবেন না বা রাতে চুল ছেড়ে কখনো ঘুমোতে যাবেন না। ঘুমাতে যাওয়ার আগে অবশ্যই চুল বেঁধে নিবেন। মনে রাখবেন চুল খুব টাইট ভাবে না বেঁধে যথাসম্ভব  হালকাভাবে বাঁধার চেষ্টা করবেন।
  • গোসলের সময় যে তাওয়াল ব্যবহার করবেন সে তাওয়াল যেন  খুব রুক্ষ না হয় সেদিকে খেয়াল রাখবেন। এক্ষেত্রে অন্যতম একটি সহজ টিপস হলো আপনারা চাইলে আপনাদের পুরনো  বা অব্যবহার্য টি-শার্ট ও চুল মুছতে ব্যবহার করতে পারেন যেটা কিনা একটা তাওয়ালের তুলনায় অনেকটাই নরম হবে।
  • ভেজা চুল অবশ্যই  আঁচড়াবেন না।
  • চুল আঁচড়ানোর ক্ষেত্রে অবশ্যই তা ধীরে সুস্থে করবেন এবং খেয়াল রাখবেন যখন আপনি চুল আঁচড়িয়ে নিচ্ছেন তখন অবশ্যই  নিচ থেকে শুরু করবেন এবং ধীরে ধীরে উপরের দিকে স্কাল্পের কাছে যাবেন।এই পদ্ধতিতে চুল আচরালে আপনার চুল পড়াটা অনেক কমে যাবে। 
  • চুলে যত কম হিট ব্যবহার করবেন ততই আপনার চুলের জন্য তা স্বাস্থ্যকর হবে। তো যখনই আপনি মনে হচ্ছে বাহিরে যাবেন না সে ক্ষেত্রে অবশ্যই স্টেইটনার, হেয়ার ড্রায়ার বা  হেয়ার আয়রন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবেন এবং চুলটাকে বাতাসে শুকানোর সুযোগ করে দিবেন।
  • যখন-তখন চুলে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকবেন এতে করে আপনার  চুলের স্কাল্প খুব জলদি  তৈলাক্ত হবে না।
  • যাদের খুব গরম পানি দিয়ে গোসল করার অভ্যাস তারা খুব গরম পানি ব্যবহার না করে হালকা গরম পানি ব্যবহার করতে পারেন কিন্তু চুলের ব্যাপারে ঠান্ডা পানি ব্যবহার করাই উত্তম।
  • শ্যাম্পু স্কাল্পে ব্যবহার করবেন। কিন্তু শ্যাম্পুটা কোন একটা কৌটায় অবশ্যই গুলিয়ে নিবেন। এবং কন্ডিশনার আপনার চুলে ব্যবহার করবেন স্কাল্পে নয়।
  • চিরুনি ব্যবহারের ক্ষেত্রে মোটা দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করুন। হেয়ার ব্রাশ দিয়ে ব্রাশ করলে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই মোটা দাঁতের ব্রাশ চুলের জন্য উপযুক্ত।
  • ঘুমানোর আগে খুবই ইমপরটেন্ট একটা টিপস হলো অবশ্যই অনেক পরিষ্কার বালিশ ব্যবহার করবেন। সেক্ষেত্রে আপনি যদি সিল্কের কভার সমৃদ্ধ সফট বালিশ ব্যবহার করতে পারেন সেটা আপনার চুল এবং স্কিনের জন্য একটা ওয়ান্ডার হিসেবে কাজ করবে।
  • সপ্তাহে অবশ্যই দুই থেকে তিনবার শ্যাম্পু   করতে হবে এবং এর আগে অয়েল মাসাজ  করতে হবে।
  • হেয়ার ফল বা হেয়ার গ্রোথ এর জন্য বায়োটিন ওমেগা থ্রি,ফিশ অয়েল ক্যাপসুল, ভিটামিন ই  ক্যাপসুল খেতে পারেন। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিবেন।

Conclusion

আমার পোস্ট থেকে চুল পড়া বন্ধ ও ঘন করার উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারলেন। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি আপনি এসব উপায়ে চুলের যত্ন করলে চুলের সব সমস্যা থেকে চিরতরে মুক্তি পাবেন। কেননা চুলের যত্নে এগুলো বহুবার পরীক্ষিত। আপনি নিজে এই উপায় গুলো কাজে লাগান এবং শেয়ার করে অন্যদের ও উপকার করুন। ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *